বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেছে ইংল্যান্ড। নরওয়েকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্স। কিন্তু জয় উদযাপনের মধ্যেও নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন প্রধান কোচ টমাস টুখেল। তার মতে, ফল এসেছে ঠিকই, কিন্তু যেভাবে দলটি খেলেছে, তাতে আরও অনেক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারানোর পর টুখেল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জয়টি দারুণ হলেও পারফরম্যান্স তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তার মতে, ইংল্যান্ড নিজেদেরই ম্যাচ কঠিন করে তুলেছে। খেলোয়াড়দের লড়াই, মানসিক দৃঢ়তা এবং প্রতিকূলতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার প্রশংসা করলেও বল দখলে রেখে খেলার সময় দলটি বারবার ছন্দ হারিয়েছে।
টুখেলের অভিযোগ, ইংল্যান্ড অযথা অনেক কারিগরি ভুল করেছে। ছোট ছোট পাসে প্রতিপক্ষকে টেনে এনে হঠাৎ আক্রমণের গতি বাড়ানোর যে পরিকল্পনা ছিল, সেটি বেশিরভাগ সময়ই বাস্তবায়ন করতে পারেনি তার দল। প্রয়োজনীয় গতি, ধারাবাহিকতা এবং ধৈর্যের অভাব ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, টুখেল শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে একটি নির্দিষ্ট কৌশলে খেলাতে চাইছেন। তার পরিকল্পনায় বলের দখল ধরে রাখা, প্রতিপক্ষকে উচ্চচাপে রাখা, ছোট ছোট পাসে প্রতিপক্ষকে নিজেদের দিকে টেনে এনে হঠাৎ পাশ বদলে ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানো এবং উইং ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। তবে বিশ্বকাপজুড়ে এই পরিকল্পনার কেবল ঝলকই দেখা গেছে, ধারাবাহিক প্রয়োগ হয়নি।
নরওয়ে ম্যাচেও একই চিত্র ফুটে ওঠে। প্রতিপক্ষ ৪-৫-১ রক্ষণাত্মক বিন্যাসে খেলায় ইংল্যান্ডের সামনে দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু উইংয়ে প্রয়োজনীয় দ্রুততা না থাকায় এবং খেলোয়াড়দের অবস্থান পরিবর্তনের সমন্বয় ঠিকভাবে না হওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইংলিশরা।
ম্যাচের শুরুতে একাধিক ছোট পাসের মাধ্যমে নরওয়ের খেলোয়াড়দের এক পাশে টেনে এনে হঠাৎ বিপরীত প্রান্তে বল পাঠানোর কৌশল কয়েকবার সফলভাবে প্রয়োগ করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিকল্পনা আর দেখা যায়নি। প্রথমার্ধে ৬৮ শতাংশ বলের দখল থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে সেটি নেমে আসে ৪৪ শতাংশে।
টুখেলের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ছিল উইংভিত্তিক আক্রমণ। তার পরিকল্পনায় উইঙ্গার, ফুলব্যাক ও মিডফিল্ডারের সমন্বয়ে ছোট ছোট ত্রিভুজ তৈরি করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার কথা। কিন্তু ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা অনেক সময় ফাঁকা জায়গা থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ পাস খেলেছেন, সামনে এগোনোর ঝুঁকি নেননি। এতে আক্রমণের গতি যেমন কমেছে, তেমনি নরওয়ের রক্ষণও স্বস্তিতে থেকেছে।
তবু প্রশ্ন উঠছে, এত সমালোচনার পরও ইংল্যান্ড বারবার জিতছে কীভাবে?
বিশ্লেষকদের মতে, টুখেলের কৌশল পুরোপুরি সফল না হলেও ইংল্যান্ডের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য তাদের বারবার ম্যাচে ফিরিয়ে আনছে। নরওয়ের বিপক্ষে দুই গোলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের সাময়িক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েছে ইংল্যান্ড। বিশেষ করে জুড বেলিংহামের সময়মতো বক্সে ঢুকে গোল করার ক্ষমতা, এলিয়ট অ্যান্ডারসনের বল এগিয়ে নেওয়ার দক্ষতা এবং মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
বেলিংহামও ম্যাচ শেষে বলেন, ফুটবল শুধু কৌশল বা কারিগরি দক্ষতার খেলা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে টুখেলের চোখ এখন সেমিফাইনালে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার রক্ষণে দুই প্রান্তে কিছু দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। তাই উইংভিত্তিক আক্রমণ এবং নিজের কাঙ্ক্ষিত কৌশল আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দিকেই এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন ইংল্যান্ডের এই জার্মান কোচ। সূত্র: বিবিসি
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জুয়ায় মত্ত নেইমার
আমরা জানতাম, আমাদের কষ্ট করতে হবে: স্কালোনি
ম্যারাডোনার রেকর্ড ভেঙে মেসির মুকুটে নতুন পালক