রুশ বিশ্লেষক প্রভাষক ফারহাদ ইব্রাহিমভ

হরমুজের প্রকৃত রক্ষক ইরান, মার্কিন আগ্রাসন ব্যবসায়িক

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ এএম

ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার একমাত্র মূল চাবিকাঠি ও নিশ্চয়তাকারী হলো ইরান। তেহরানের শক্ত অবস্থানের কারণে এই প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা সফল হবে না।

মস্কোর পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক ও প্রভাষক ফারহাদ ইব্রাহিমভ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। 

তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন ইরানের সাথে হওয়া সমঝোতা স্মারকের সমস্ত শর্ত পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে।

বিশ্লেষক ইব্রাহিমভ জানান, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে উগ্র আচরণ শুরু করার আগ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী সবসময় শান্তিপূর্ণ ছিল। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ সময় ধরে বিনামূল্যে নিরাপত্তা দেওয়ার দাবিকে তিনি একটি বাণিজ্যিক চাল হিসেবে আখ্যা দেন।

তার মতে, ট্রাম্প মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক প্রকল্পে রূপান্তর করতে চান। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কৌশলগত আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা আমেরিকার সাথে সমান অবস্থানে থেকে কথা বলতে সক্ষম। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তেহরান কখনোই ওয়াশিংটনের কোনো চাপের কাছে আত্মসমর্পণ বা আপস করবে না।

রুশ এই বিশেষজ্ঞের দাবি, ইরানের অনড় অবস্থানের মুখে মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে চরম বিভ্রান্ত এবং নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ইরানকে ব্ল্যাকমেইল বা হুমকি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো ফায়দা তুলতে পারবে না, বরং এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, চলমান আগ্রাসনে সুবিধা করতে না পেরে আমেরিকা এখন আরেকটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বাঁধানোর পাঁয়তারা করছে। আর এ কারণেই তারা হরমুজ প্রণালী ও দক্ষিণ ইরান অঞ্চলে নতুন করে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের ছক আঁকছে।

তথ্যসূত্র : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বার্তা সংস্থা (ইরনা) ও পার্সটুডে।

HN
আরও পড়ুন