টানা বৃষ্টিতে ফটিকছড়িতে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:০২ পিএম
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির প্রভাবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা সবজি, মাছ, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ প্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
 
শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার বিবিরহাট, নাজিরহাট ও ফটিকছড়ি সদর বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত দুই সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। টমেটো, শশা, কাঁচামরিচ, শিম, পটল, চিচিঙ্গা, করলা, মিষ্টিকুমড়া ও লাউসহ অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
বর্তমানে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি, শশা ১০০ টাকার বেশি, কাঁচামরিচ ১৮০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা এবং লাউ ৮০ টাকায়। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। লেবুর দাম কিছুটা কমলেও তাতে ক্রেতাদের স্বস্তি ফেরেনি।
মাছ ও মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম লক্ষ্য করা গেছে। দুই কেজি ওজনের কাতলা মাছ ৫০০ টাকার বেশি, দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ ৪৭০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।গরুর মাংসের দামও বেড়ে কেজি প্রতি ৯০০ টাকার বেশি হয়েছে।
 
বাজার করতে আসা গৃহিণী মো: জেসমিন বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগে যে টাকায় সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় প্রয়োজনীয় সবজিও কেনা কঠিন। সংসারের খরচ সামলাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
নাজিরহাট বাজারের সবজি বিক্রেতা মো: হারেছ বলেন, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি ঠিকমতো আসছে না। অনেক জমিতে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে, তার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।
 
মাছ ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নিয়মিত নদী ও খালে মাছ ধরতে পারছেন না। আড়তে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দামও বেশি। তাই খুচরা বাজারেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং উৎপাদন এলাকা থেকে সবজি ও মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, টানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবজি চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সাময়িকভাবে দামের চাপ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করছি, তারা দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় সবজি চাষ শুরু করবেন এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
MCH/YA
আরও পড়ুন