সকালে ৭ শ্রমিক, বিকালে সেই সড়কে স্বামী-স্ত্রী নিহত

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় সকালে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস শ্রমিকদের ওপর উঠে ৭ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনার ১২ ঘন্টা ব্যবধানে ফের প্রাইভেটকারের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে একই সড়কে একদিনে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সিল্কিবান্দা এলাকায় পৌঁছায়। বৃষ্টির কারণে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। একই সাথে সেখানে কাজের সন্ধানে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতে থাকা দিনমজুরদের চাপা দেয় বাসটি। বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান। পরে স্থানীয়রা ও উদ্ধারকর্মীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা যান।
 
এই ঘটনার প্রায় ১২ ঘন্টা পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একই সড়কের বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী মারা যায়। এ ঘটনায় তাদের সাত বছর বয়সী নাতি আহত হয়েছে। তবে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার আটাপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিন মোল্লার ছেলে বাবুল হাসান (৫০) এবং তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৫)। বাবুল হাসান পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুল হাসান তার স্ত্রী ও সাত বছর বয়সী নাতি জুলকার নাঈনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নওগাঁর দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুল হাসান নিহত হন।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিন বিবি ও শিশু জুলকার নাঈনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন বিবিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজুল মণ্ডল বলেন, চালকের অদক্ষতা ও অসতর্কতার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমার মনে হয়েছে। একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। মোটরসাইকেলটি নিজেদের রক্ষা করতে রাস্তার বাম পাশে সরে গেলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়াতে পারেনি।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

MCH/AHA
আরও পড়ুন