মৃত্যুর ৩০ বছর পর এভারেস্ট থেকে উদ্ধার হচ্ছেন পর্বতারোহী

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ার কাছাকাছি বরফে জমে থাকা 'গ্রিন বুটস' নামে পরিচিত বিখ্যাত এক পর্বতারোহীর মরদেহ ৩০ বছর পর অবশেষে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। চূড়ার পথনির্দেশক হিসেবে পরিচিত এবং বরফে জমে যাওয়া এই মরদেহটি শেষ পর্যন্ত ঘরে ফেরানোর জন্য উচ্চ-উচ্চতায় উদ্ধার কাজে বিশেষজ্ঞ দল খুঁজছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৬ সালে এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ভারতীয় পর্বতারোহী দোর্জে মরুপের (Dorje Morup) মরদেহটি ৮,৫০০ মিটার উচ্চতায় একটি পাথরের খাঁজে পড়ে রয়েছে। তাঁর পরা উজ্জ্বল টিয়া রঙের পর্বতারোহণের বুটের কারণেই পর্বতারোহীদের কাছে মৃতদেহটি 'গ্রিন বুটস' নামে পরিচিতি পায়। বছরের পর বছর ধরে ধারণা করা হতো যে এই মরদেহটি অন্য এক পর্বতারোহী সেওয়াং পালজোরের, কিন্তু বেঁচে যাওয়া অভিযাত্রী ও পোশাকের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি দোর্জে মরুপের।

ভারতীয় পর্বতারোহী দোর্জে মরুপ

দোর্জে মরুপ ভারতের ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) ল্যান্স নায়েক ছিলেন। ১৯৯৬ সালে চীনের তিব্বতের দিকের বিপজ্জনক পথ দিয়ে ভারতের প্রথম দল হিসেবে এভারেস্ট জয়ের অভিযানে গিয়ে বরফঝড়ের কবলে পড়ে মরুপসহ দলের তিন সদস্য মারা যান। বর্তমানে আইটিবিপি সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে এই ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার মিশন পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।

উদ্ধারকাজটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল হতে চলেছে। যেখানে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং অতি কম অক্সিজেন থাকে, সেই 'ডেথ জোনে' এই উদ্ধারকাজ চালাতে হবে। তীব্র খাড়া পাথুরে পথ দিয়ে মরুপের দেহ নিচে নামানো পর্বতারোহীদের জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি। এছাড়া দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বরফে জমে থাকা পোশাকসহ প্রায় দ্বিগুণ ভারী হয়ে যাওয়া মৃতদেহ বহন করতে ১০ থেকে ১২ জন দক্ষ লোকের প্রয়োজন হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুলও বটে।

মরদেহটি ভারতে ফিরিয়ে আনার পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ৩০ বছর ধরে পথ চেয়ে বসে থাকা পরিবার তাঁর মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছে। সফলভাবে শেষ হলে মরুপের পরিবার তাঁর স্মরণে লাদাখে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং তাঁর স্মৃতি হিসেবে ঐতিহাসিক 'গ্রিন বুটস' জোড়া ঘরে সংরক্ষণ করে রাখবে।

সূত্র: বিবিসি

YA
আরও পড়ুন