টুকরা টুকরা করে ১১ পলিথিনে রাখা হলো নারীর মরদেহ

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৩ এএম

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিখোঁজ এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দী করে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামের এক ভাড়াটিয়াকে আটক করে স্থানীয়রা মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ফরিদা বেগম (৫৫) একই এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়াবাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী। মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে একটি জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন লাইলী আক্তার।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর আগে মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন ফরিদা বেগম ও তার পরিবার। তার দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

স্বজনরা জানান, ডায়াবেটিসের কারণে ফরিদা বেগম নিয়মিত সকালে হাঁটতে বের হতেন। শনিবার সকালে তাকে বাড়িতে না পাওয়ায় প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ করা হয়। পরে নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ফরিদার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

এরই মধ্যে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে প্যাকেটগুলোর ভেতরে ফরিদার খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বলে শনাক্ত করে। সন্ধ্যার দিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যার পর পরিচয় ও ঘটনা গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি কয়েক টুকরা করা হয়। এরপর সেগুলো ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরা হয়। পরে প্যাকেটগুলো একটি বস্তায় ঢুকিয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়েছিল।

ঘটনার পর স্থানীয়রা ফরিদা বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সেখানে বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইলীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশের দাবি, লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহের মাথা ও পা উদ্ধার করা যায়নি।

ওসি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

Maz
আরও পড়ুন