পাটের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম

মানিকগঞ্জে অনুকূল আবহাওয়া পাটের আশানুরূপ ফলনে ও দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বিগত তিন-চার বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদের চিত্র ইতি বাচক রয়েছে।

​কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় চার হাজার পাঁচ’শ ৭৬ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি জাতের পাটের আবাদ হয়েছে। তোষা পাট তিন হাজার সাত’শ ৫৫ হেক্টর, মেস্তা পাট ১৮ হেক্টর, কেনাফ পাট পাঁচ হেক্টর এবং দেশি জাতের পাট সাত’শ ৯৮ হেক্টর জমিতে।

​জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলাতেই পাটের আবাদ হয়েছে। তবে ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় আশানুরূপ ফলনে স্থানীয় চাষিরা বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন। ইতোমধ্যে জমি থেকে পাট কেটে সেই সোনালী আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক কৃষাণীরা। সোনালী আঁশ ছাড়ানোর পর রোদে শুকিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন হাটে মানের ওপর ভিত্তি করে সন্তোষ জনক দরে পাট বিক্রি করছেন চাষিরা। হাট গুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেশ সরব উপস্থিতি রয়েছে। সোনালী আঁশের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় চাষিরা গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন।

ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চাষি আতিকুল বলেন, আমি তিন বিঘার কিছু বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেছি। গত বছরের চেয়ে এবারের ফলন অনেকাংশেই ভালো হয়েছে। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে হাটে নেওয়া পর্যন্ত যে খরচ হয়েছে, এবার পাট বিক্রি করে তা বাদ দিয়ে বেশ ভালো মুনাফা হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের বাসতুরি এলাকার চাষি চাঁন মিয়া বলেন, গত তিন-চার বছর পাট আবাদ করে তেমন লাভের মুখ দেখিনি। তবে চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় আবাদ করা থেকে শুরু করে জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ বেশ ভালো ভাবে করতে পেরেছি। বর্তমান বাজারে যে দাম পাচ্ছি, তাতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে আমাদের বেশ ভালো লাভ থাকছে।

​কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, সোনালী ফসল পাটের আবাদের জন্য এই জেলা অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করেছে। এ মৌসুমে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবং আগামী মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।

MU
আরও পড়ুন