শান্তিচুক্তির শর্ত না মানলে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন না করলে কূটনীতির পথ ছেড়ে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি ও বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙতে সময়োপযোগী ও নির্ভুল সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত তেহরান।

ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়নের জন্য মাত্র কয়েক সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটনকে চুক্তির প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবেও দেখছে ইরান।

ইরানি ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানের এই সময়সীমার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানাবে। একই সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে হরমুজ প্রণালি ও বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে পারে, এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে ইরান তা নিতে প্রস্তুত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে তেহরান সামরিক পদক্ষেপের পথেও যেতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতির কার্যকারিতা নিয়ে তেহরানের আস্থা ক্রমেই কমছে। ফলে ইরান এখন প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে নীতি পরিবর্তন করছে।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে আন্তরিক নয়, এটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত। তাই শুধু মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর আশা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে তেহরান।

ইরানের এই অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র। তেহরান আগে থেকেই বলে আসছে, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত এই জলপথে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুরোপুরি ফিরবে না।

ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সূত্র: ডন

AS
আরও পড়ুন