ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা কোনো আগ্রাসী পক্ষ ঠিক করে দিতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি, তাই যুদ্ধের সমাপ্তিও অন্য পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া শর্তে মেনে নেবে না।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ইরান তার অধিকার, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই করেছে। তাই যুদ্ধের জন্য দায়ী পক্ষকেই এর জবাবদিহি করতে হবে।
তিনি বলেন, ইরান আগ্রাসনের মুখে কোনো ধরনের আপস করবে না। যুদ্ধ শুরু না করলেও এর সমাপ্তি আগ্রাসী পক্ষের শর্তে হবে, এমন কোনো পরিস্থিতি তেহরান মেনে নেবে না।
যুদ্ধ বন্ধের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, সংশ্লিষ্ট সব বিষয় দেশের নীতিনির্ধারকেরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। তার দাবি, গত দেড় বছরে যুদ্ধ এড়ানো ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান সম্ভাব্য সবকিছু করেছে। কিন্তু একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে অপর পক্ষ।
এ ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি, ১৮ জুনের যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদ সমঝোতার কথা তুলে ধরেন বাঘাই। তার অভিযোগ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইরানের সদিচ্ছার জবাব দেওয়া হয়েছে প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাধ্যমে।
ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ নিয়েও কঠোর অবস্থান জানান তিনি। বাঘাইর ভাষ্য, এই অবরোধ সরাসরি আগ্রাসনের শামিল। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ইরান এমন পরিস্থিতিতে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে না বলে জানান তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর নিয়েও কথা বলেন বাঘাই। তিনি জানান, মুনিরের সফর দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত হয়েছে। একই সময়ে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আলবুসাইদির তেহরান সফরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
বাঘাই জানান, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে তিনি গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা বলে উড়িয়ে দেন।
ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মূলত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই ইরান এসব চাপ মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় সব সুযোগ কাজে লাগাবে এবং এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে আইনি ও সীমান্তসংক্রান্ত বাধা দূর করতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা বারাদারের মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
'হরমুজে ইরানের নজরদারি যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার চেয়েও কঠোর'
আলোচনার জট কি খুলতে পারবেন আসিম মুনির
ইরান-সৌদির সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ইরাকের