মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশারি, কয়েল কিংবা অন্যান্য প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করেও যখন স্বস্তি মিলছে না, তখন চীনে শুরু হয়েছে ভিন্নধর্মী এক হাইটেক প্রযুক্তির ব্যবহার। ফটোন মেট্রিক্স নামের লেজারভিত্তিক এই ডিভাইসের মাধ্যমে মশা নিধনে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলে তৈরি ছোট আকৃতির ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মশা শনাক্ত করতে পারে। এরপর মশার গতিপথ হিসাব করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বরাবর লেজার রশ্মি ছুড়ে মুহূর্তেই সেটিকে ধ্বংস করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর আগাম বুকিংও শুরু হয়েছে। ডিভাইসটির সাধারণ সংস্করণের মূল্য ১ হাজার ৮৮ ডলার। আর বাইরে ব্যবহারের উপযোগী ঘূর্ণায়মান বেজযুক্ত সংস্করণের দাম ১ হাজার ১১৮ ডলার।
ফটোন মেট্রিক্স মূলত লিডার প্রযুক্তিনির্ভর একটি ডিভাইস। স্বচালিত গাড়িতে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির সাহায্যে আশপাশের পরিবেশ স্ক্যান করে কোনো বস্তুর অবস্থান, দূরত্ব ও আকার নির্ণয় করা যায়। ডিভাইসটির উন্নত সংস্করণ প্রায় ২০ ফুট বা ৬ মিটার দূরত্ব থেকেও মশা শনাক্ত করতে সক্ষম।
মশা শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইসের ভেতরে থাকা বিশেষ তড়িৎ-চৌম্বকীয় আয়না দ্রুত ঘুরে লেজার রশ্মিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করে। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই লেজারের আঘাতে মশাটি ধ্বংস হয়ে যায়।
নির্মাতাদের দাবি, প্রতি সেকেন্ডে ৩.৩ ফুট গতিতে উড়তে থাকা ২ থেকে ২০ মিলিমিটার আকারের যেকোনো পোকা ধ্বংস করতে পারে এই প্রযুক্তি। তবে মশার বদলে জোনাকির মতো উপকারী কোনো পোকা ভুল করে লেজারের লক্ষ্যবস্তু হবে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে লক্ষ্যের মিল পাওয়া গেলেই কেবল ডিভাইসটি লেজার ছুড়বে।
ফটোন মেট্রিক্সে দুটি ধরনের লেজার প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর একটি দৃশ্যমান নীল লেজার, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪৫০ ন্যানোমিটার। অন্যটি ৯৭৬ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অদৃশ্য ইনফ্রারেড লেজার।
তবে অদৃশ্য ইনফ্রারেড লেজার নিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অসাবধানতাবশত এই লেজার সরাসরি চোখে লাগলে রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পণ্যটির প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সনদ ও স্বাধীন পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছিল। এসব সনদ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মশা নিয়ন্ত্রণে লেজার প্রযুক্তির ব্যবহার আরও নতুন মাত্রা পেতে পারে।
ইরানকে একঘরে করতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি
ইসরায়েলি অবরোধে পশ্চিম তীরে তীব্র জ্বালানি সংকট