মানুষের রক্তের প্রতি মশার আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বন উজাড় এবং জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ফলে মশারা এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে মানুষের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
ব্রাজিলের আটলান্টিক অরণ্যে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে বন্যপ্রাণীদের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকলেও বর্তমানে মশাদের একটি বড় অংশ কেবল মানুষের রক্তই শোষণ করছে।
ব্রাজিলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অলওয়াল্ডো ক্রুজ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা আটলান্টিক অরণ্য অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে মশাদের ওপর এই পর্যবেক্ষণ চালান। গবেষণার জন্য ৫২টি ভিন্ন প্রজাতির মোট ১,৭১৪টি মশা সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় উঠে আসা মূল তথ্যগুলো হলো:
- সংগৃহীত মশাদের মধ্যে ১৪৫টি ছিল স্ত্রী মশা (যেহেতু কেবল স্ত্রী মশারাই রক্ত পান করে)।
- ল্যাবরেটরিতে ২৪টি স্ত্রী মশার পেট থেকে সংগৃহীত রক্ত বিশ্লেষণ করা হয়।
- পরীক্ষায় দেখা যায়, ২৪টি মশার মধ্যে ১৮টির পেটেই ছিল মানুষের রক্ত।
- বাকি মশাগুলোর পেটে ইঁদুর, পাখি, উভচর এবং কুকুরজাতীয় প্রাণীর রক্ত পাওয়া গেছে।
- এই তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে মশার খাদ্য তালিকায় মানুষের রক্তই প্রধান হয়ে উঠছে।
কেন বাড়ছে মানুষের রক্তের প্রতি আসক্তি?
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের বসতি স্থাপন ও বন উজাড়ের কারণে আটলান্টিক অরণ্যের আয়তন এখন মূল আয়তনের মাত্র ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে অরণ্যের অনেক বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে অথবা সংখ্যায় কমে গেছে। আগে যেসব প্রাণীর শরীর থেকে মশারা রক্ত শোষণ করত, সেই উৎসগুলো কমে যাওয়ায় তারা বিকল্প হিসেবে মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে।
রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি
ব্রাজিলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সার্জিয়ো মাচাদো এই প্রবণতাকে বিপজ্জনক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, মশার খাদ্য তালিকায় মানুষের রক্ত প্রধান হয়ে ওঠায় রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। মশারা যখন কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর সুস্থ কাউকে কামড়ায়, তখন খুব সহজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
গবেষকদের মতে, বনায়ন কমে যাওয়া এবং প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার এই প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মশা আকৃতির সামরিক ড্রোন তৈরি করল চীন
প্রথমবার উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস দেখলো মানুষ
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা ‘গিলে’ নিচ্ছে চাঁদ
