১১টি বিমানবাহী রণতরি থাকার পরও কেন সংকটে যুক্তরাষ্ট্র?

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে ১১টি বিমানবাহী রণতরি রয়েছে, যা তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের (যাদের ক্যারিয়ার সংখ্যা ৩টি) চেয়ে ৮টি বেশি। তা সত্ত্বেও সব চাহিদা মেটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল নৌবাহিনী কেন পর্যাপ্ত নয়, তার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক মার্কিন নেভি ভাইস অ্যাডমিরাল জন মিলার।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা জানান, শুনতে ১১টি অনেক মনে হতে পারে, কিন্তু যে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে এর খুব সামান্য অংশই অভিযানে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকে।

তিনি জানান, এসব রণতরি সার্বক্ষণিক মোতায়েন না থাকার মূল বাধা হলো দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ। সাধারণত একটি বিমানবাহী রণতরি বহু বছর ধরে জটিল ওভারহলিং এবং পারমাণবিক জ্বালানি পুনর্বিকিরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এছাড়া সাধারণ মেরামত ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কারণে বাকিগুলোর একটি বড় অংশ যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে অলস বসে থাকে।

একটি রণতরির যুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতকরণের সমীকরণ টেনে মিলার জানান, মোট রণতরির সংখ্যাকে তিন দিয়ে ভাগ করে প্রস্তুত থাকার হিসাব করতে হয়।

তিনি বলেন, যদি কোনো দিনে আমাদের ৯টি রণতরি সচলও থাকে, তবে তার মধ্যে মাত্র ৩টি সমুদ্রে মোতায়েন করা সম্ভব। বাকি ৩টি মাত্র অভিযান শেষ করে ফিরেছে এবং অন্য ৩টি পরবর্তী অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই হিসেব থেকেই স্পষ্ট হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র কেন নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াতে গিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলকে রণতরিশূন্য করতে বাধ্য হয়েছে। ওই অঞ্চলে থাকা তাদের একমাত্র বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-কে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয় ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’-এর সাথে যোগ দিতে।

সাবেক এই ভাইস অ্যাডমিরাল সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দুটি রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন রাখার অর্থ বিশাল অগ্নিশক্তি দেখানো, কিন্তু এর মাশুল বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলের নিরাপত্তা ঘাটতি দিয়ে গুনতে হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

ওয়াইএ
আরও পড়ুন