ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং আইনি নানা জটিলতার কারণেই ওয়াশিংটন এই পথে হাঁটবে না বলে মনে করেন মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কোয়িন্সি ইনস্টিটিউট’-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ত্রিতা পার্সি বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ওয়াশিংটন সফরের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
তিনি জানান, কূটনৈতিক দিক থেকে কৌশলগত ভূমিকা রেখেছিল বেইজিং। যুদ্ধের চরম মুহূর্তে তেলের দাম যখন লাফিয়ে বাড়ছিল, তখন চীন তেল কেনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের নিচে থাকে। চীনের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বব্যাপী কোনো অর্থনৈতিক মন্দা যেন তৈরি না হয়। বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্ত অঘোষিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেও বড় ধরনের জ্বালানি সংকট থেকে রক্ষা করেছিল।
পার্সি আরও উল্লেখ করেন, চীন কখনোই তাদের কোম্পানি বা অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর মার্কিন হস্তক্ষেপ সহজে মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হবে।
তাছাড়া চীনের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর জটিলতার কথা তুলে ধরে পার্সি জানান, বেইজিং এমন কিছু আইন পাস করেছে- যার ফলে কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান যদি বিদেশী বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে, তবে উল্টো চীনে সেই প্রতিষ্ঠান শাস্তির মুখোমুখি হবে। এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ওয়াশিংটনের পক্ষে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সূত্র: আল-জাজিরা
হাইতিতে অস্ত্রধারীদের রাতভর হামলায় নিহত ৪৭
১১টি বিমানবাহী রণতরি থাকার পর কেন সংকটে যুক্তরাষ্ট্র?