অস্ট্রেলিয়ায় এআই গান নিষিদ্ধ : কেন এই সিদ্ধান্ত?

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম

অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (ARIA) সংগীত চার্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি গান নিষিদ্ধ করেছে। এখন থেকে দেশটির অফিশিয়াল চার্টে কেবল মানুষের তৈরি গানই স্থান পাবে। শিল্পীদের মূল সৃজনশীলতাকে সুরক্ষিত রাখতেই এই নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন নিয়মানুযায়ী, সুর সৃষ্টি বা গান রচনায় এআই ব্যবহার করা যাবে না। তবে গান মাস্টারিং, ড্রাম মেশিন কিংবা অটো-টিউনের মতো প্রযুক্তিগত সহায়তায় এআই ব্যবহারের সুযোগ বহাল থাকছে। অর্থাৎ, মূল শিল্পকর্মটি অবশ্যই মানুষের নিজস্ব হতে হবে।

সম্প্রতি 'ফাওয়াজ' নামের এক সংগীতশিল্পীর তৈরি এআই কভার গান 'ম্যাডনেস' নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। গানটি এআরআইএ চার্টের ২ নম্বরে ওঠে এবং স্পটিফাইতে ৪৮ মিলিয়নের বেশি স্ট্রিম হয়। পরে ফাওয়াজ স্বীকার করেন এতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।

এআই প্রযুক্তির অপ্রকাশিত ব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি। নতুন নীতি ভেঙে কোনো গান চার্টের এক নম্বরে পৌঁছালেও তা বাতিল হবে এবং অর্জিত পুরস্কার ফেরত নেওয়া হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিল্পীরা আপিল করার সুযোগ পাবেন।

এআরআইএ-এর প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হার্ড জানান, নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত প্রতিভাধর শিল্পীদের মূল্যায়ন করা। ডিজিটাল যুগে যেন মানুষের তৈরি নিজস্ব সংগীত হারিয়ে না যায়, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক ব্যান্ড 'পিকিং ডাক' এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ব্যান্ডের সদস্য অ্যাডাম হাইড মন্তব্য করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মৌলিক সৃজনশীলতাকে ক্ষুণ্ন করছিল। তাই শিল্পীদের সুরক্ষায় এই আইন অত্যন্ত জরুরি ছিল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই নীতির প্রভাব পড়ছে। সুইডেন ইতিমধ্যেই তাদের মিউজিক চার্ট থেকে এআই-নির্মিত গান বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশও এই ধারা অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (ARIA) ও আন্তর্জাতিক রেকর্ডকৃত সংগীত সংস্থা (IFPI)।

HN
আরও পড়ুন