ট্রাম্পকে কীভাবে বিপদে ফেলতে পারে কানাডা?

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের জবাবে পাল্টা কৌশলে হাঁটছে অটোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা এবার দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কানাডা তাদের মোট উৎপাদিত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে। তবে মেইন, মিশিগান ও উইসকনসিনসহ দেশটির ২৬টি অঙ্গরাজ্যের প্রধান ক্রেতাও কানাডা।

অটোয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী, "ডলার-ফর-ডলার" নীতিতে মার্কিন ইস্পাত, দুগ্ধপণ্য, ইলেকট্রনিকস ও কাগজশিল্পের ওপর কৌশলগত শুল্ক চাপানো হতে পারে।

কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ নিশ্চিত করে। পাশাপাশি মার্কিন অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ আসে দেশটির সীমান্ত থেকেই।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত মাশুল আরোপের বিকল্প প্রস্তাব এখনো টেবিলে উন্মুক্ত রয়েছে।

কৃষিশিল্পে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান পটাশ সরবরাহে বিশ্বে শীর্ষে কানাডা। এর পাশাপাশি দেশটির কাছে থাকা নিকেল ও লিথিয়ামের মতো খনিজ সরবরাহ বন্ধ হলে সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র।

ইতোমধ্যেই কানাডার প্রাদেশিক দোকানগুলো থেকে মার্কিন মদ বয়কট করায় দেশটির অ্যালকোহল শিল্পে প্রায় ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি ধস নেমেছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন কানাডীয়রা। ফলশ্রুতিতে ভ্রমণ খাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে।

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান ও মেইনের মতো সীমান্তঘেঁষা অঙ্গরাজ্যগুলোতে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ভোটার অসন্তোষ চরম রূপ নিতে পারে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অটোয়ার ওপর অতিরিক্ত শুল্কের এই বোমার আঘাত দিনশেষে মার্কিন শ্রমিকদের ওপরই গিয়ে পড়বে।

সূত্র: সিএনএন, দ্য এশিয়ান এজ এবং এপি (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস)।

HN
আরও পড়ুন