চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ এএম

বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য একটি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করছে। সম্ভাব্য এই প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল্য প্রায় ২ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানা গেছে।

জে-১০সিই চীনের তৈরি একটি মাঝারি ওজনের, এক ইঞ্জিন ও এক আসনের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি চতুর্থ প্রজন্মের বিমান হিসেবে পরিচিত হলেও এর আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে একে ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

বিমানটির নকশায় ডেল্টা উইং ও ক্যানার্ড কনফিগারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মাক ২ গতিতে উড়তে সক্ষম। এর যুদ্ধপরিধি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার।

জে-১০সিই তৈরি করে চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। এটি চীনা বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ।

চীনের কাছ থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সরকারের একটি কমিটি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান।

সম্ভাব্য এই ক্রয়চুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ হতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।

২০২৫ সালের মে মাসে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করার পর বিমানটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনায় আসে। তবে পাকিস্তানের ওই দাবি নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।

জাহেদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চলে ওই সংঘাতের সময় চীনা যুদ্ধবিমানটির কথিত কার্যকারিতার বিষয়টি ঢাকা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে দেশীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানই জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের একমাত্র নিশ্চিত বিদেশি ব্যবহারকারী।

এমএজেড
আরও পড়ুন