যে ভুড়িভোজে অতিথি থাকে শুধু বানরেরা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

পাচাড়ি, পায়াসামসহ নানা পদে সাজানো ঐতিহ্যবাহী ওনাম সাদ্য। সারি সারি কলাপাতা বিছিয়ে একে একে পরিবেশন করা হয় খাবার। এরপর অপেক্ষা শুরু হয় অতিথিদের জন্য। তবে ভারতের কেরালার কোল্লাম জেলার শাস্তমকোটা শ্রী ধর্ম শাস্তা মন্দিরের এই বিশেষ অতিথিরা কোনো মানুষ নন—তারা মন্দিরের বাসিন্দা বানর।

প্রতিবছর ওনাম উৎসবের উথ্রাডম ও তিরুওনাম—উৎসবের নবম ও দশম দিনে—মন্দিরের বানরদের জন্য আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ওনাম সাদ্য। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ব্যতিক্রমী রীতিই এখন মন্দিরটির অন্যতম আকর্ষণ।

মন্দিরের উত্তর পাশের ভোজনকক্ষে সারি করে কলাপাতা বিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একে একে পরিবেশন করা হয় সাদ্যের বিভিন্ন পদ।

খাবার প্রস্তুত হওয়ার সময় আশপাশের গাছের ডাল, দেয়াল ও ছাদে বসে বানরগুলো অপেক্ষা করতে থাকে। খাবার দেখেও তারা তাড়াহুড়ো করে নিচে নামে না। ভাতসহ সব পদ পরিবেশন শেষ হওয়া এবং মানুষজন সরে যাওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করে।

এরপর শুরু হয় ভোজ।

স্থানীয়দের কাছে ‘মুরিভালান’ নামে পরিচিত বানর দলের প্রবীণ সদস্যটি প্রথমে কলাপাতার কাছে এসে খাবার গ্রহণ করে। সে খাওয়া শুরু করার পরই গাছ ও দেয়াল থেকে একে একে নেমে আসে দলের অন্য সদস্যরা। এরপর প্রত্যেকে নিজেদের জন্য রাখা কলাপাতার সামনে বসে খাবার খেতে শুরু করে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোজনকক্ষটি পরিণত হয় কেরালার অন্যতম ব্যতিক্রমী ওনাম দৃশ্যে। একটি পুরো বানরদল মানুষের মতোই ঐতিহ্যবাহী ওনাম ভোজ উপভোগ করতে থাকে।

শাস্তমকোটা ও ধর্ম শাস্তা মন্দিরের সঙ্গে বানরগুলোর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। স্থানীয় লোককথায় তাদের এই এলাকায় বসবাসের সঙ্গে ভগবান রামের সময়কার একটি ঐতিহ্যের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়।

এই বিশেষ ভোজের সূচনা করেছিলেন অরবিন্দাক্ষন নায়ার। ৫৩ বছর আগে উথ্রাডমের দিন বানরদের জন্য খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। বানরগুলোকে খাবারের জন্য সংগ্রাম করতে দেখে তাঁর মনে এই আয়োজনের চিন্তা আসে।

নায়ার বলেন, ওনাম উপলক্ষে মানুষ যখন বড় আয়োজন করে সাদ্য খায়, তখন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে বসবাস করা এসব প্রাণী ক্ষুধার্ত থাকবে—এটা তাঁর কাছে কষ্টদায়ক মনে হয়েছিল।

বানরগুলো যাতে খাবারের অভাবে না থাকে, সেই মানবিক চিন্তা থেকেই শুরু হয়েছিল আয়োজনটি। সময়ের সঙ্গে সেটিই পরিণত হয়েছে শাস্তমকোটার ওনাম উৎসবের এক স্থায়ী ঐতিহ্যে।

এখানে মানুষ রান্না করে, খাবার পরিবেশন করে, আর শেষ পর্যন্ত নীরবে সরে যায়—মন্দিরের বহুদিনের বাসিন্দা বানরদের জন্য।

এমএজেড
আরও পড়ুন