সুদানে বিদ্রোহীদের হামলায় শিশুসহ নিহত ২৭

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাউথ কর্দোফান প্রদেশে আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মিত্র এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় চার শিশুসহ ২৭ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’।

সংগঠনটি জানায়, সাউথ কর্দোফানের অটোমেটিক ওতোরো উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা কারদুদ ও আবু হামামায় হামলাটি চালায় ‘সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট’ (এসপিএলএম-এন)।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নাগরিকরা জীবন বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে আবু হিতান ও কাদুগলির দিকে গণহারে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংগঠনটি আরও সতর্ক করে দিয়ে জানায়, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে সাউথ কর্দোফানের অভ্যন্তরীণ সংকট একটি ভয়াবহ ও বিস্তৃত জাতিগত দাঙ্গায় রূপ নিতে পারে।

মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই বছর সাউথ কর্দোফানের নুবা পর্বতের সংখ্যালঘু ওতোরো উপজাতির সাথে এসপিএলএম-এন-এর তীব্র লড়াই শুরু হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদান সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া মূল গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই জাতিগত সংঘাত নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসপিএলএম-এন নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেশি দক্ষিণ সুদানের ক্ষমতাসীন দল এসপিএলএম থেকে ভেঙে গঠিত হয় এই এসপিএলএম-এন। এর প্রধান আবদেল আজিজ আল-হিলু তাঁর বাহিনীকে আরএসএফ-এর সাথে যুক্ত করেছেন। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সুদানের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, দেশটির তিন-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের এখন চরম মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।

সূত্র: আল-জাজিরা

ওয়াইএ
আরও পড়ুন