হাইতিতে অস্ত্রধারীদের রাতভর হামলায় নিহত ৪৭

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের উপকণ্ঠে একটি আবাসিক এলাকায় অস্ত্রধারীদের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘের হাইতি বিষয়ক সমন্বিত কার্যালয় (বিআইএনইউএইচ) জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনো পরিবর্তিত হতে পারে। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বারবার প্রাণঘাতী হামলার মুখে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তারা আরও কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাজধানীর দিকে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর ওপর কৌশলগত অবস্থানে থাকা কেন্সকফ পাহাড়ি এলাকায় গত বছর থেকে সশস্ত্র গ্যাংয়ের অন্তত এক ডজন হামলা হয়েছে। এসব হামলার কারণে হাজারো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

হাইতির রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কয়েক বছর ধরে শক্তিশালী সশস্ত্র গ্যাংগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বিভিন্ন গ্যাং একটি বৃহত্তর জোটের অধীনে সংগঠিত হয়ে রাজধানীর বাইরে পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। তাদের মোকাবিলায় বিদেশি দেশগুলো হাইতির দুর্বল ও অস্ত্রস্বল্প পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা জোরদারের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

হাইতির মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া হামলায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে পুরো এলাকায় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন হওয়ায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

হাইতি সরকার হামলাটিকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে হামলা হলেও পুলিশ সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স

এমএজেড
আরও পড়ুন