ঝালকাঠিতে ১২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

ঝালকাঠিতে ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২৫টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলায় সহকারী শিক্ষকের ২৮৭টি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৯৫ জন। বাকি ১২৫টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ঝালকাঠি সদরের ১৬২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১টিতে, নলছিটির ১৬৭টির মধ্যে ৫৭টিতে, রাজাপুরের ১২৪টির মধ্যে ৪২টিতে এবং কাঁঠালিয়ার ১৩২টির মধ্যে ৪৫টিতে প্রধান শিক্ষক নেই।

প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক সংকটও রয়েছে। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ হাজার ৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২ হাজার ৭১৬ জন এবং চলতি দায়িত্বে রয়েছেন ১২৫ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ২৮৭টি পদ।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ঝালকাঠি সদরে সহকারী শিক্ষকের ৩২টি, নলছিটিতে ৬৬টি, রাজাপুরে ১১৭টি এবং কাঁঠালিয়ায় ৭২টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-দুই ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা তদারকি এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার দেরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে আমাকে নিয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন।

উপজেলার কাঁঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান বলেন, দেড় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩০১ জন। সহকারী শিক্ষকের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, প্রধান শিক্ষকের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

এমইউ
আরও পড়ুন