সাপের জরিপ কেন করা হয়?

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশে সাপের বৈচিত্র্য, বিস্তৃতি ও দংশনের ঝুঁকি চিহ্নিত করতে বড় পরিসরে বৈজ্ঞানিক জরিপ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজ্যটিতে প্রায় ৫০ প্রজাতির সাপের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রজাতি বিষধর, যার মধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ‘বিগ ফোর’—গোখরা, কমন ক্রেইট, রাসেলস ভাইপার ও স-স্কেলড ভাইপার, রয়েছে।

এ জরিপটি প্রচলিত অর্থে প্রতিটি সাপ গুনে সংখ্যা নির্ধারণের কোনো অভিযান নয়। বরং কোন এলাকায় কোন প্রজাতির সাপ বেশি, তাদের আবাসস্থল কোথায়, বিষধর সাপের বিস্তৃতি কেমন এবং সাপের চলাচলের ধরন কী এসব তথ্য সংগ্রহ করাই এর মূল লক্ষ্য।

ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া ও মধ্যপ্রদেশ বন বিভাগ যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করছে। ২০২৬ সালের মার্চে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। কানহা, সাতপুরা ও পান্না টাইগার রিজার্ভ, গান্ধী সাগর ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি এবং আমরকণ্টকের বনাঞ্চল—এই পাঁচটি ভিন্ন পরিবেশগত অঞ্চলে জরিপ চালানো হচ্ছে।

গবেষণায় বনকর্মীদেরও যুক্ত করা হয়েছে। টহলের সময় কোনো সাপ দেখা গেলে তার ছবি তুলে জিপিএস অবস্থানসহ গবেষকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি সকালে ও রাতে সরাসরি পর্যবেক্ষণ, বনপথে গাড়ি চালিয়ে সাপ শনাক্ত করা এবং সড়কে মৃত সাপের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


কেন এই জরিপ গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষকদের কাছে শুধু রাজ্যে কত প্রজাতির সাপ রয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং কোন সাপ কোথায় বেশি পাওয়া যায় এবং মানুষের সঙ্গে তাদের সংঘাতের সম্ভাবনা কোথায় বেশি—এই তথ্য জনস্বাস্থ্য ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জরিপের মাধ্যমে তৈরি হতে যাওয়া তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতে বিষধর সাপের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত, সাপ উদ্ধারের ব্যবস্থাপনা উন্নত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম ও চিকিৎসা-সুবিধা পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে।

ফলে মধ্যপ্রদেশের এই উদ্যোগকে শুধু ‘সাপ গণনা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সাপ-মানুষ সংঘাত কমানো এবং সাপের দংশনজনিত জনস্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার একটি বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা।

এমএজেড
আরও পড়ুন