‘আর কখনো গৃহযুদ্ধ নয়’, কেন বললেন নেতানিয়াহু?

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

ইসরায়েলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র হলেও দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বিরোধ যতই গভীর হোক, নিরাপত্তা, সামরিক শক্তি ও ইসরায়েলি রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্র নিয়ে ইহুদি সমাজের বড় অংশের মধ্যে এখনো বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে।

এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে ‘আলতালেনা’ নামের একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কারের পর। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ডানপন্থী ইরগুন সংগঠনের অস্ত্রবোঝাই ওই জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করে। ওই ঘটনায় ইরগুনের ১৬ যোদ্ধা এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হন।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আলতালেনার ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর ঘটনাটিকে সামনে এনে ‘আর কখনো গৃহযুদ্ধ নয়’-এই বার্তা দিয়েছেন। তবে এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের পুরোনো রাজনৈতিক বিভাজনও আবার আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষক গোল্ডবার্গের মতে, ইসরায়েলি সমাজে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখার প্রবণতা ব্যাপক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা-ভাবনায় আরও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে শান্তি ও স্বাভাবিকীকরণের চেয়ে সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা এখন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তাঁর বিশ্লেষণ।

তাঁর যুক্তি, ইসরায়েলের বিভিন্ন ইহুদি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নীতিগত মতভেদ থাকলেও রাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের বিষয়ে বড় ধরনের অভিন্নতা রয়েছে। এই ঐকমত্যই গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নেই। নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব, সরকারের নীতি, যুদ্ধ পরিচালনা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। কিন্তু এসব বিরোধ এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন