ভিয়েনার ঐতিহাসিক সেন্ট স্টিফেনস ক্যাথেড্রালের ভূগর্ভস্থ ক্যাটাকম্ব থেকে প্রায় ছয় দশক আগে একটি মানুষের খুলি চুরি করেছিলেন এক তরুণ জার্মান পর্যটক। সেই খুলি এত বছর নিজের কাছে রাখার পর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনুশোচনায় ভুগে সেটিই আবার ডাকযোগে ক্যাথেড্রালে ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত সেন্ট স্টিফেনস ক্যাথেড্রালের আর্কাইভ কর্মকর্তা ফ্রাঞ্জ জেটনারের কাছে একটি অস্বাভাবিক পার্সেল পৌঁছানোর পর। পার্সেলটির কোনো স্পষ্ট প্রেরকের নাম ছিল না। খুলতেই ভেতরে পাওয়া যায় একটি মানুষের খুলি এবং উত্তর জার্মানির এক প্রবীণ ব্যক্তির লেখা একটি চিঠি।
চিঠিতে ওই ব্যক্তি স্বীকার করেন, প্রায় ৬০ বছর আগে তরুণ বয়সে ক্যাথেড্রালের ক্যাটাকম্ব পরিদর্শনের সময় তিনি খুলিটি চুরি করেছিলেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কাজের জন্য অনুশোচনা তৈরি হওয়ায় খুলিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চিঠিতে নিজের সঙ্গে মানসিকভাবে সমঝোতায় আসার ইচ্ছার কথাও জানান।
ক্যাথেড্রালের কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাটি যেমন বিস্ময়কর, তেমনি আবেগপূর্ণও ছিল। ফ্রাঞ্জ জেটনার জানান, পার্সেলটি খুলে মানুষের খুলি পাওয়ার ঘটনায় তিনি একই সঙ্গে বিস্মিত ও আবেগাপ্লুত হয়েছেন। তাঁর মতে, বহু বছর পর হলেও ওই ব্যক্তির ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি মৃতদের প্রতি এক ধরনের সম্মান প্রদর্শন।
খুলিটি কার ছিল, জানা গেল না
ফেরত পাওয়া খুলিটির পরিচয় অবশ্য আর নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ক্যাথেড্রালের ক্যাটাকম্বে থাকা অধিকাংশ অস্থি বহু পুরোনো ঐতিহাসিক কবরস্থান থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। ফলে নির্দিষ্ট কোনো মৃত ব্যক্তির সঙ্গে খুলিটিকে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।
সেন্ট স্টিফেনস ক্যাথেড্রালের ক্যাটাকম্বে হাজার হাজার মানুষের দেহাবশেষ রয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১১ হাজার মানুষের দেহাবশেষ সংরক্ষিত রয়েছে। ক্যাথেড্রালের নিচের এই ভূগর্ভস্থ জগৎ ভিয়েনার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চুরি হয়ে যাওয়া খুলিটি শেষ পর্যন্ত আবার ক্যাটাকম্বেই সম্মানের সঙ্গে সমাহিত করা হয়েছে।
ছয় দশকের এক অদ্ভুত গল্প
ঘটনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো—চুরির পর কেটে গেছে প্রায় ছয় দশক। এত দীর্ঘ সময় ধরে ওই ব্যক্তি খুলিটি কীভাবে সংরক্ষণ করেছেন, কোথায় রেখেছিলেন কিংবা কেন এতদিন ফেরত দেননি—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবে তাঁর চিঠির বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে পুরোনো সেই কাজের দায়বোধ তাঁকে তাড়িত করছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয় প্রকাশ না করেই খুলিটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অদ্ভুত এই ঘটনার শেষটা তাই শুরুটির মতো নয়। তরুণ বয়সের এক কৌতূহল বা বেপরোয়া সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে যে খুলিটি ক্যাটাকম্ব থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, ছয় দশক পর সেটিই আবার ফিরে গেল তার পুরোনো ঠিকানায়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া
নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৪৭
আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে দিলেন রোনালদো
পদ্মা ব্যারেজের নতুন পিডি প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ