জমকালো আয়োজনে শেষ হলো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে জমকালো পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল উপমহাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬’-এর।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বিশ্বের ১৪৪ নম্বর র‌্যাঙ্কিংধারী মিশরের জিয়াদ ইব্রাহিম ও ১৬৪ নম্বর র‌্যাঙ্কিংধারী শ্রীলঙ্কার রভিন্দ্র লক্ষীশ্রীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে রভিন্দ্র লক্ষীশ্রীকে ৩-০ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন জিয়াদ ইব্রাহিম।

গত ২৪ আগস্ট শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এই আন্তর্জাতিক আসরে বিশ্বের ১১টি দেশের শীর্ষস্থানীয় পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা অংশ নেন। টুর্নামেন্টজুড়ে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ছিল সরব।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মু. হাসান-উজ-জামান, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্টের প্রমোটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম, এসপিপি (অবসরপ্রাপ্ত), নির্বাহী কমিটির সদস্যরা, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ঊর্ধ্বতন নির্বাহী পরিচালক কর্নেল মহাসিনুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আমন্ত্রিত অতিথি, দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় ও সাংবাদিকরা।

সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘স্কোয়াশ ও শিক্ষা বৃত্তি’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এ বছর মাধ্যমিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের সম্মাননা দেওয়া হয়। ক্ষুদে স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণীর মূল পর্ব। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় তরুণ প্রতিভা পারভেজ করিমকে পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে এ পর্ব শুরু হয়। এরপর দ্বিতীয় রানার্সআপ মিশরের মোহাম্মদ গহর (বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ৯৫), প্রথম রানার্সআপ ইরানের সেফের এতেমাদপুর (বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ৫৬৬), রানার্সআপ রভিন্দ্র লক্ষীশ্রী এবং চ্যাম্পিয়ন জিয়াদ ইব্রাহিমকে পুরস্কার ও প্রাইজমানি দেওয়া হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ক্লাসরুম স্কোয়াশ’, খেলাধুলা ও নেতৃত্বের বিকাশ এবং ‘স্কোয়াশ ও শিক্ষা বৃত্তি’-এর মতো ব্যতিক্রমী ও ধারাবাহিক কর্মসূচির সুফল এখন দৃশ্যমান। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে স্কোয়াশের নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬’ শুধু দেশের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে ভূমিকা রাখেনি, একই সঙ্গে বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় ‘স্কোয়াশ ডেস্টিনেশন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথও তৈরি করেছে।

তারা আরও জানান, গত পাঁচ বছরে দেশে অনেকটা মৃতপ্রায় অবস্থায় থাকা স্কোয়াশ খেলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে পদক অর্জনও শুরু করেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

আগামী ২০৩২ সালের অলিম্পিকে স্কোয়াশের অংশগ্রহণকে সামনে রেখে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে খেলাটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। সেই প্রত্যয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় এবারের বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬।

এমএজেড
আরও পড়ুন