ট্রায়ালের নামে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা, অতঃপর...

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার কথা বলে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল। স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ভইটিকর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মোরসালিন বিয়ানীবাজার থানায় কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জ এলাকার যুবক সাইদুর রহমান ফেসবুকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে ওলিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হেতিমগঞ্জে সাইদুরের কাছে যান কনস্টেবল মোরসালিন। সেখানে মোটরসাইকেলটি পছন্দ হওয়ার পর ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার কথা বলে মোরসালিন সেটি নিয়ে গোলাপগঞ্জের দিকে রওনা দেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মোটরসাইকেলের মালিক সাইদুর তার পিছন পিছন যান। পরবর্তীতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ভইটিকর এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মোরসালিনকে আটক করা হয়। এ সময় মোরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউল ইসলাম দাবি করেন যে তিনি মোরসালিনকে চেনেন না। পরে ক্ষুব্ধ জনতা মোরসালিনকে গণধোলাই দিয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ছবেদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় মোটরসাইকেল বিক্রেতা সাইদুর রহমান বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে মোরসালিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। মোরসালিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে মোরসালিন ও ওলিউলকে তাদের এক আত্মীয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। মোরসালিনের আচরণ-চরিত্র নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অসৎ কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মোরসালিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন