ঘুষ নেওয়ার মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। রয়টার্সের প্রতিবেদন।
শুক্রবার রাজধানী কুইটোর আদালতে রায় ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র কোকা কোদো সিনক্লেয়ার নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে করা ঘুষের মামলায় মোরেনোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দেশটির সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের অভিযোগ, প্রকল্পটির নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত একটি দুর্নীতিচক্রে মোরেনো, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় ও চীনা ব্যবসায়ীরা জড়িত ছিলেন।
মামলাটির তদন্ত শুরু হয় ২০২৩ সালের মার্চে। কৌঁসুলিদের অভিযোগ, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন দেশে গড়ে তোলা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে এসব অর্থ মোরেনোর পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের কাছে পৌঁছানো হয়।
কৌঁসুলিরা আরও দাবি করেন, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় মোরেনো ও তাঁর ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা এক মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিলেন। বিচারিক ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল কাবরেরা রায় ঘোষণার সময় বলেন, সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষের অভিযোগের সঙ্গে মোরেনোর কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে।
এই মামলায় মোরেনোর স্ত্রী ও মেয়ে এবং তাঁর দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রীদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে দুই বছর ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কুইটোতে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুনগুওকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন মোরেনো। প্রকল্পটির কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা তদারকিতে তাঁর ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি। আদালতে শুনানির সময় মোরেনো বলেন, তদন্তকারীরা ভুল জায়গায় খুঁজছেন; বরং যারা প্রকল্পের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং ঘুষ দাবি করতেন, তাদের দিকেই নজর দেওয়া উচিত।
মোরেনো ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিচার মোকাবিলার জন্য তিনি প্যারাগুয়ে থেকে ইকুয়েডরে ফিরে আসেন।
সূত্র: রয়টার্স।
ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনার ঘাটতিতে পড়ছে রাশিয়া
ভিয়েনার জাদুঘর থেকে রাজপরিবারের হীরার নেকলেস চুরি
আল্লাহর ইচ্ছায় শীঘ্রই শত্রুদের 'চমক' দেখাবে ইরান: প্রতিরক্ষামন্ত্রী