নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে সামরিক বিদ্রোহের ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সাহেল অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্রোহ দমনে রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পসের সহায়তার খবর মস্কোর সঙ্গে নাইজারের সামরিক সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সহায়তা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৯ আগস্ট নিয়ামেতে একদল সেনা রাজধানীর বিমানবন্দর, প্রেসিডেন্টের প্রাসাদসংলগ্ন এলাকা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের পর সরকারি বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, জিহাদি গোষ্ঠীর হামলায় সেনাদের হতাহত এবং সামরিক নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ থেকেই বিদ্রোহের সূত্রপাত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্রোহ দমনে নাইজারের সামরিক সরকারকে সহযোগিতা করে রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পস। প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ সদস্যের এই রুশ বাহিনী স্থল ও আকাশপথে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করে বলে জানা গেছে। নাইজারের সামরিক সরকারের অনুরোধেই রুশ বাহিনী এই অভিযানে অংশ নেয় বলে রুশ পক্ষের বক্তব্যেও উঠে এসেছে।
২০২৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন নাইজারের বর্তমান শাসক আবদুরাহমানে তিয়ানী। তার ক্ষমতায় আসার পর ফ্রান্স ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সঙ্গে নাইজারের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিপরীতে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করে দেশটি। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর নাইজারের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে মস্কোর অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
তবে রাশিয়ার সামরিক সহায়তা বাড়লেও নাইজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে নাইজারের সেনাবাহিনীর ভেতরেও অসন্তোষ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সেনা বিদ্রোহ রাশিয়ার জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে নাইজারের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেই সহযোগিতা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাহেল অঞ্চলে রাশিয়ার ভূমিকা এখন কেবল অস্ত্র সরবরাহ কিংবা সামরিক প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সামরিক সরকারগুলোর ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও মস্কো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হয়ে উঠেছে। নাইজারের সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।
তবে একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নাইজারের নিজস্ব সামরিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতাগুলো সমাধান করতে পারছে না বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং নিরাপত্তা সংকট দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সরকারের ভেতরেই নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নাইজার ছাড়াও সাহেলের সামরিক শাসিত মালি ও বুরকিনা ফাসো রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে নাইজারের সাম্প্রতিক সেনা বিদ্রোহ শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট নয়; সাহেল অঞ্চলে রাশিয়ার গড়ে তোলা নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
মালয়েশিয়ায় ক্রেন দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত
মার্কিন কারাগার থেকে ছবি পোস্ট করে যা বললেন মাদুরো
৩১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই, ১৬টিতে শীর্ষ তিন পদই শূন্য