'ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র'

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ এএম

সামরিক কৌশলে ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা না গেলে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট। সাংবাদিক টাকার কার্লসনের এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস ও সিআইএ-তে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কেন্ট ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালকের পদে ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে চলতি বছরের শুরুতেই তিনি পদত্যাগ করেন।

গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের শর্তে রাজি না হলে ইরানের সভ্যতা বিলুপ্ত করে দেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এসব বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কেন্ট বলেন, চলমান সংঘাত থেকে পথ খুঁজতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন পরমাণু হামলার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তার মতে, পুরো সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করেও ইরান নীতিতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি ওয়াশিংটন।

কেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন যদি তেহরানকে পুরোপুরি পরাস্ত ও উৎখাত করতে চায়, তবে তাদের সামনে দুটি বিকল্প থাকে-স্থলপথে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ অথবা পারমাণবিক হামলা। তবে ইরানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে স্থলযুদ্ধ পরিচালনা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার সামনে আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে আমেরিকা সীমিত পরিসরে কৌশলগত পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে।

এদিকে অস্ত্র সংকটের তথ্য নাকচ করে পেন্টাগনে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প ও তার প্রশাসন। একই সাথে তেহরানকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' বা ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে চীনসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০টি সংস্থা, ব্যক্তি ও নৌযানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন