বিচারকশূন্য সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

দীর্ঘ এক বছর ধরে বিচারকশূন্য রয়েছে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত বিচারপ্রার্থী। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালটিতে সাড়ে চার হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র মামলাজট। দ্রুত নতুন বিচারক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা।

মামলাজট নিরসন এবং দ্রুত বিচারক পদায়নের দাবিতে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা।

আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালে বিচারক পদায়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত সংবেদনশীল মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে এই ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন বিচারকের পদ শূন্য থাকায় সাড়ে চার হাজারের বেশি মামলা বিচার কার্যক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে মামলাজট আরও বেড়ে চলেছে।

বিচারপ্রার্থী কবিতা ও মুক্ত সরকার বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত এক বছর ধরে কোনো বিচারক নেই। বিচারপ্রত্যাশী ভুক্তভোগী নারী, শিশু ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে এসে প্রতিনিয়ত হতাশ হয়ে ফিরছেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাঁরা মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ন্যায়বিচার।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত জরুরি। আদালতের অচলাবস্থা দূর করতে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দ্রুত বিচারক পদায়নের আবেদন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘব এবং মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত একজন যোগ্য বিচারক পদায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালে বিচারক দেওয়া দরকার।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন