মার্কিন নৌ-অবরোধ ইরানের তেল রপ্তানি থামাতে পারেনি: পাকনেজাদ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং অবকাঠামোয় হামলার মধ্যেও ৪০ দিনের যুদ্ধে এক ঘণ্টার জন্যও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ। তার দাবি, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে তেল বিক্রি ও গ্রাহকদের কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা করে অবরোধের প্রভাব এড়িয়ে গেছে তেহরান।

ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে মেহর নিউজ জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অব্যাহত ছিল।

পাকনেজাদ বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং দেশের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা সত্ত্বেও তেল রপ্তানি এক ঘণ্টার জন্যও বন্ধ হয়নি। যুদ্ধের সময় তেল সংরক্ষণ ও বিতরণকেন্দ্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়।

ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সাউথ পার্স গ্যাস কমপ্লেক্সও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানান তিনি। তবে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি তেল বিক্রি ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ নিশ্চিত করাও তেহরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

পাকনেজাদের ভাষ্য, এরপর ইরানের ওপর সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করা হয়। প্রথম দফার অবরোধ রাস আল-হাদ থেকে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এর মধ্যেও তেল বিক্রি ও সরবরাহ চালু রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় ইরান।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে তেল বিক্রি এবং ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

তেলমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার নৌ-অবরোধ প্রায় ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত কার্যকর ছিল। পরে অবরোধে সাময়িক বিরতি পাওয়ায় ওই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে ইরান বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের জলসীমার বাইরে সরিয়ে নেয়। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে ক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

পাকনেজাদ বলেন, এভাবে অবরোধের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহের সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে ইরান।

তবে ১৫ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফায় নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছে এবং তার দাবি অনুযায়ী, সেটি এখনো বহাল রয়েছে।

তিনি বলেন, তেলশিল্প বসে থাকেনি বা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। অবরোধ পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে বিভিন্ন সমাধান ও পদক্ষেপ নিয়ে কাজ চলছে।

বাড়ছে তেল উৎপাদন

অবরোধ ও যুদ্ধের চাপের মধ্যেও দেশে তেল উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকনেজাদ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক অতিরিক্ত ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের লক্ষ্যে নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে দৈনিক প্রায় ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদন নিশ্চিত হয়েছে।

একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের সময় যে গ্যাস সাধারণত পুড়িয়ে ফেলা হয়, সেই গ্যাস সংগ্রহের কাজেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়।

পাকনেজাদ বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ঘনমিটার ফ্লেয়ার গ্যাস সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে থেকে সংগ্রহ করা দৈনিক প্রায় ৫৫ লাখ ঘনমিটার গ্যাসের সঙ্গে যোগ হয়ে বর্তমানে মোট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ঘনমিটার।

এতে জ্বালানি অপচয় কমানোর পাশাপাশি সংগৃহীত গ্যাস পুনরায় উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হামলার পরও গ্যাস উৎপাদন পুনরুদ্ধার

যুদ্ধের সময় ইরানের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোর ওপর হামলার মধ্যেও উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কাজ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকনেজাদ।

তিনি জানান, ১৮ মার্চ আসালুয়েহ এলাকায় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ নম্বর পর্যন্ত চারটি গ্যাস শোধনাগারে হামলা চালানো হয়। এতে ইরানের গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ কমে যায়।

তবে ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু হয়।

পাকনেজাদ আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব প্রচেষ্টার ফল দেখা যাবে এবং ইরানের গ্যাস উৎপাদন আবারও বাড়তে পারে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন