যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত দ্রুত কমে যাওয়া, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, বাজারের এই সূচকগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রকৃত চাপের চিত্র তুলে ধরছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্টকে সরাসরি উদ্দেশ করে গালিবাফ বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে তাকে আরও কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বিপজ্জনক পর্যায়ের নিচে নেমে গেলে এর সংরক্ষণাগারগুলোও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ও জ্বালানি বাজারে প্রশাসনের নীতির কার্যকারিতা নিয়ে চাপ বাড়ছে। বেসেন্ট দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদহার কমাতে এবং সরকারের ঋণ নেওয়ার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে মার্কিন ট্রেজারি বাজারে বন্ড পুনঃক্রয়ের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এর মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডও রয়েছে।
তবে বাজারে এ উদ্যোগের প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি। দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এ ধরনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআর থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে হয়েছে। ফলে দেশটির কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮০-এর দশকের শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত তেল মজুত টেক্সাস ও লুইজিয়ানার বিশাল ভূগর্ভস্থ লবণগুহায় সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে টেক্সাস উপকূলের কাছে ব্রায়ান মাউন্ড অন্যতম বড় সংরক্ষণাগার।
তবে এসব ভূগর্ভস্থ লবণগুহা থেকে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তেল সরিয়ে নিলে চাপের পরিবর্তন, লবণের দেয়ালের স্থিতিশীলতা, কূপের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে বেসেন্টের বিভিন্ন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু তেল ব্যবসায়ী ধারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যৎ তেলের দাম কমতে পারে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহের পরিস্থিতি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ফিউচারসের দাম সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ পুনরায় চালু হবে, এমন আশ্বাস এবং বাজারে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করে তেলের ভবিষ্যৎ দাম কমিয়ে আনার আশা করছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্ডের উচ্চ সুদহার এবং কৌশলগত তেল মজুতের ব্যাপক হ্রাস সেই প্রচেষ্টার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
গালিবাফের মতে, ইরানকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে ওয়াশিংটন পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে। তবে বন্ড, তেল ও জ্বালানি বাজারের বিভিন্ন সূচক যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া চাপের আরও স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরছে বলে দাবি করেন তিনি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাঘচির কড়া জবাব
মার্কিন নৌ-অবরোধ ইরানের তেল রপ্তানি থামাতে পারেনি: পাকনেজাদ
হরমুজে ইরানের ‘ব্ল্যাকলিস্টে’ ৫৬ জাহাজ