হিলি স্থলবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম দিনাজপুরের হিলি-ডুগডুগি-ঘোড়াঘাট জাতীয় মহাসড়ক। ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের প্রশস্তকরণ ও মানোন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর ধরে চলছে ধীরগতিতে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৬৩ কোটি ৭১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানোর পাশাপাশি এখন প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বাড়িয়ে ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
২০২৪ সালে প্রকল্পের প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সময় বাড়ানো হলেও ২০২৫ সাল পেরিয়ে ২০২৬ সালেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর নতুন প্রস্তাব করা হয়েছে।
দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ২৬ কিলোমিটার সড়কটি তিনটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়। এসব কাজের দায়িত্ব পায় জামিল ইকবাল গ্রুপ। তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশ শেষ করতে পারেনি। ঘোড়াঘাটের ওসমানপুর হিলি চারমাথা থেকে ডুগডুগি পর্যন্ত অংশে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে ডুগডুগি থেকে হিলি পর্যন্ত দীর্ঘ অংশে এখনো কাজ শুরু হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি ও অসমতল অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কার্পেটিং করা হলেও তার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এতে ধুলাবালি, যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নতুন কার্পেটিং কতটা টেকসই হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউপি সদস্য আসাদুল বলেন, ‘যে কার্পেটিং করা হচ্ছে, তা তিন মাসও টিকবে না। ভারী গাড়ি চলাচল করলে কার্পেটিং উঠে যাবে।’
বলহার বাজারের ধান ব্যবসায়ী সাহারুল ইসলাম বলেন, একটি সড়কের কাজ শেষ করতে এত সময় লাগার কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, হিলির দিকে এখনো কাজ শুরু হয়নি। বাজার এলাকায় রাস্তা কাঁচা ও ধুলায় ভরা থাকায় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সুরা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা পারভেজ হাসান কাজের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এক জায়গায় কিছুদিন কাজ করার পর অন্য জায়গায় চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। মাঝখানে সড়কের বিভিন্ন অংশ ফাঁকা পড়ে থাকে। আবার অনেক সময় কয়েকদিন কাজ বন্ধও থাকে।
প্রকল্পের ধীরগতির পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, আগের সরকারের সময় প্রতিষ্ঠানটির লোকজন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। এমনকি একটি মাদ্রাসা বন্ধ করে খেলার মাঠে নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি রাখার অভিযোগও করেছেন তারা। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু সময় কাজ বন্ধ ছিল বলেও জানান স্থানীয়রা।
এদিকে প্রকল্পের কাজ নিয়ে জনগণের অসন্তোষের বিষয়ে জামিল ইকবাল গ্রুপের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইনামের বক্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। তিনি বলেন, ‘জনগণ খারাপ বললে কী হবে, সওজ কর্মকর্তারা তো খুশি আছেন।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, জনগণের দুর্ভোগ যেখানে দিনের পর দিন বাড়ছে, সেখানে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট থাকলেই কি একটি জনস্বার্থের প্রকল্পের কাজ মানসম্মত বলে বিবেচিত হবে?
এ বিষয়ে দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে দপ্তরের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম অভিযোগগুলো শুনে ‘দেখছি’ বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। বিশেষ করে হিলি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ভারী যানবাহনের চাপ থাকায় সড়কের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জনস্বার্থে টেকসইভাবে সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।
সিলেট সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল
বাসের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন
কালীগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ২০
প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেলো সেই নারীর