‘ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নজর দিবে ট্রাম্প’

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিকল্পনাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘আরও বড় কিছু’ (Something Much Bigger) হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিয়ে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলা, যেখানে ওয়াশিংটন নিরাপত্তার গ্যারান্টার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিকল্পনায় যে বিষয়গুলো থাকতে পারে

ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনায় এখন পর্যন্ত তিনটি বড় বিষয় উঠে এসেছে—

১. ইরানকে মোকাবিলায় আঞ্চলিক জোট:
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত করে ইরানের প্রভাব মোকাবিলার একটি কাঠামো তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে।

২. গাজা ও অন্যান্য সংঘাতের সমাধান:
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়া, ইসরায়েল-সিরিয়া নিরাপত্তা সমঝোতা এবং ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

৩. ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ:
ট্রাম্প প্রশাসন আব্রাহাম অ্যাকর্ডস আরও সম্প্রসারণ এবং বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে জোর দিতে পারে। এমন একটি চুক্তি ট্রাম্পের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইসরায়েলের নির্বাচন বড় চ্যালেঞ্জ

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন এবং নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল অনুকূল না হলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে অন্তত দুটি বৈঠকে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং পরিকল্পনাটি প্রস্তুত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অর্থাৎ, ট্রাম্পের সম্ভাব্য উদ্যোগ শুধু ইরানকে মোকাবিলার সামরিক কৌশলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো, ইসরায়েল-আরব সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক কূটনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর একটি বড় পরিকল্পনা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।

এমইউ
আরও পড়ুন