ইরাকের আনবারে ৪৭ ড্রোন ও ৪৬টি প্রজেক্টাইল উদ্ধার

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশে পরিত্যক্ত একটি স্থাপনা থেকে ৪৭টি ড্রোন ও ৪৬টি প্রজেক্টাইল উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আনবার প্রাদেশিক পুলিশ কমান্ডের একটি ইউনিট পরিত্যক্ত ওই স্থাপনাটির সন্ধান পায়। একসময় জায়গাটি গাড়ির টায়ার মেরামতের দোকান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

তল্লাশি চালিয়ে সেখানে বিপুলসংখ্যক ড্রোন, সেগুলোর সঙ্গে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত প্রজেক্টাইল এবং ড্রোন পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, উদ্ধার করা ৪৬টি প্রজেক্টাইল ড্রোনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রাখা হয়েছিল। এছাড়া ড্রোন নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র, ব্যাটারি, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট উপকরণও জব্দ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী স্থাপনাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে থাকা সব সরঞ্জাম জব্দ করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

উদ্ধার করা এসব অস্ত্র ও সরঞ্জামের উৎস কোথায় এবং এর সঙ্গে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত—তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ইরাকের উদ্যোগ

আনবারে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও প্রজেক্টাইল উদ্ধারের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরাকের সরকার দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ জোরদার করছে।

গত ৩ জুন ইরাকের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান জানিয়েছিলেন, দেশের সব অস্ত্রকে রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি তখন জানান, কমিটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

এর আগে ১ জুন শিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কও রাষ্ট্রের একক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অস্ত্র ইরাকের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অংশ হলেও অন্যরা স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

দেশটির রাজনৈতিক শক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কারণ ইরাকে মাঝে মধ্যেই নিরাপত্তা উত্তেজনা, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করে।

আনবারে উদ্ধার হওয়া ড্রোন ও প্রজেক্টাইলের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এগুলো কী উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত করা হয়েছিল, তদন্ত শেষ হলে সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ হতে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত