বাংলাদেশে আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। টুর্নামেন্ট সামনে রেখে জাতীয় ফুটবল দলও প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাফের আগে ফিফা-আসিয়ান কাপ ফুটবলে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া যাবে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ফিরে ঢাকায় সাফের প্রস্তুতিতে নামবেন ফুটবলাররা। তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও বাংলাদেশে আদৌ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বাফুফের তৎপরতাও সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের জন্য সাফ ও বাফুফের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা হয়নি। এই সুযোগে অন্য কয়েকটি দেশও সাফ আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তারা বিকল্প আয়োজক হওয়ার সুযোগ নিতে চায়।
বাফুফের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সাফ আয়োজন হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাফুফের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, ‘আমরা (বাফুফে) শুধু সাফের প্রতিদিনের খেলাগুলো আয়োজন করব। সাফের খেলাটা তুলে দেওয়া। চুক্তি হয়নি, হয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে সাফের সম্পাদক নেপালের পুরুষোত্তম ক্যাটেলকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
গত ২৫ জুলাই ঢাকায় জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের টাইটেল স্পনসর হিসেবে টেকনোর নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে ভুটানে টুর্নামেন্টের ড্রও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর আয়োজন নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। আয়োজক বাফুফে ও সাফের মধ্যে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তিও হয়নি।
আগের আলোচনা অনুযায়ী, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব বাফুফের এবং বাকি সব ব্যবস্থাপনা সাফের করার কথা ছিল। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিমানভাড়া, হোটেল খরচ, টেলিভিশন স্বত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দায়িত্ব সাফ অফিসের। কিন্তু এসব ব্যবস্থাপনায় বাফুফেও কিছু অংশীদারত্ব চাইছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাফুফের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন আমাদের কর্মকর্তারা সাফের কাছে আবদার করছেন, বাফুফেকে টিভি স্বত্ব দিতে হবে। এটা চায়, ওটা চায়। আজ একটা আবদার করে, কাল আরেকটা অনুরোধ করে। আমরা বাফুফে থেকে কোনটা চাই, সেটাও নিজেরা সঠিকভাবে স্থির করতে পারছি না।’
বাফুফের আরেক কর্মকর্তা বলেন, অর্থসংক্রান্ত বিষয়গুলো সাফই দেখবে। তবে বাফুফে আরও কিছু দায়িত্ব নিতে চায়। তাঁর দাবি, প্রতিদিন নতুন নতুন চাওয়া নিয়ে আলোচনায় আসার কারণেই বাফুফে ও সাফের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। চার সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে শুধু আলোচনা চলছে। বাফুফে নতুন নতুন দাবি নিয়ে আসায় সাফ আয়োজনের পরিকল্পনাও থমকে আছে।
এদিকে বাফুফের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলে হামজা চৌধুরী খেলতে পারেন। তিনি খেললে দর্শকদের আগ্রহ বাড়বে এবং টিকিটের চাহিদাও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সাফের ২৫ শতাংশ টিকিট চেয়েছে বাফুফে। অন্যদিকে প্রতি ম্যাচে ৫ হাজার টিকিট বাফুফেকে দেওয়ার দাবির কথাও বলা হচ্ছে।
সাফ আয়োজন নিয়ে বাফুফের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এ নিয়ে সাফের সঙ্গে কথা বলতে এমন একজনকে পাঠানো হয়েছে, যিনি বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য নন।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাফুফের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের ভাষ্য, ‘কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হওয়া বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে আমাদের মতো এত কর্মকর্তা থাকতে কেন কমিটির বাইরের অন্য কাউকে সাফের অফিসে কথা বলতে পাঠানো হবে? সে যার ভাই হোক। এখানে ভাইয়ের পরিচয় বড় কথা নয়। সাফের সঙ্গে কথা বলবেন নীতিনির্ধারকদের মধ্য থেকে। তাহলে আমরা কেন নির্বাচিত হয়ে এসেছি?’
মেসির রেকর্ড ভাঙলেন আর্জেন্টাইন তরুণ
নতুন 'বিশ্ব মানচিত্র' নিয়ে ভারতসহ ৩ দেশের আপত্তি, কারণ কী?
গ্রিসে ২২ বছর পুরোনো ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম!