পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সেদেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারিদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য দিয়ে পাকিস্তানে অনুরূপ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। পাকিস্তানের হাইকমিশনার ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে তার দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান। এ বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানো ওপর জোর দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে হাইকমিশনার পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি দুদেশের মধ্যে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেএম
আরও পড়ুন