ইয়েমেনের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় হুথিরা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা দেশটির পুরো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দাবিষয়ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা।

তার মতে, নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ চাপ তৈরির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে হুথিরা সামরিক শক্তি ব্যবহারে বিশ্বাস করে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-বাশা বলেন, “হুথিরা আজ সবকিছুই চায়। তারা পুরো ইয়েমেন চায়।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিদের লক্ষ্য শুধু সামরিকভাবে ভূখণ্ড দখল করা নয়। তারা নিজেদের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, আকাশসীমা ও সমুদ্রবন্দর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ারও চেষ্টা করছে।

সৌদি স্বীকৃতিই কি মূল লক্ষ্য?

আল-বাশার মতে, এসব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ইয়েমেনের অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় হুথিরা। একই সঙ্গে সৌদি আরব যেন তাদের ইয়েমেনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়—এটিও তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

তিনি বলেন, এমনকি হুথিরা পুরো ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলেও সৌদি আরবের কাছ থেকে বহু বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন সহায়তা দাবি করতে পারে।

তবে সৌদি আরব যদি সেই অর্থ দেয়, এরপর হুথিরা আর নতুন কোনো অর্থ বা অতিরিক্ত দাবি তুলবে না—এর নিশ্চয়তা কী, সে প্রশ্নও তুলেছেন আল-বাশা।

তার মতে, এই পরিস্থিতি সৌদি নেতৃত্বের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের প্রভাব কতটা?

হুথিদের শক্তিশালী আঞ্চলিক খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে উঠতে ইরানের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন আল-বাশা। তবে হুথিদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।

তার মতে, ইয়েমেনে ইরানের উপদেষ্টা থাকতে পারেন এবং তারা হুথিদের ওপর চাপ প্রয়োগ বা নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সংগঠনটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পুরোপুরি ইরানের হাতে।

আল-বাশার ভাষায়, ইরানই হুথিদের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে; কিন্তু ইরানের সহায়তা ছাড়া হুথিরা টিকে থাকতে পারবে না—এমনটা মনে করার কারণ নেই।

আঞ্চলিক সমীকরণে হুথিদের অবস্থান

হুথিদের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়। লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে তাদের সামরিক সক্ষমতা তাদের প্রভাবকে ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও নিয়ে গেছে।

ফলে ইয়েমেনের ক্ষমতার লড়াই এখন সৌদি আরব, ইরান এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। হুথিরা যদি সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে আরও বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার কাঠামোর পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যও বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন