১৭ বছরের নিপীড়ন-নির্যাতনের কথা ভুলে গেলে চলবে না: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর গত ১৭ বছরে যে নিপীড়ন-নির্যাতন ও মামলা হয়েছে, তা ভুলে গেলে চলবে না। একই সঙ্গে দলের সঙ্গে নতুন করে যারা যুক্ত হতে চাইছেন, তাদের বিষয়ে নেতা ও প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে ১৭ বছরের নিপীড়ন-নির্যাতনের কথা যেন আমরা ভুলে না যাই। আমাদের নামে হওয়া অসংখ্য মামলা, দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চালানো নির্যাতনও মনে রাখতে হবে। আমাদের ছেলে-পেলে, ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাতের পর রাত ধানক্ষেত, পাটক্ষেত ও নদীর মধ্যে ঘুমিয়েছে। এসব ত্যাগ যেন আমরা ভুলে না যাই।’

দলের সঙ্গে নতুন করে অনেকে যুক্ত হতে চাইবেন উল্লেখ করে ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘আমরা মন খুলে সবাইকে স্বাগত জানাই। তবে নেতা নির্বাচন কিংবা প্রতিনিধি বাছাইয়ের সময় সতর্ক থাকতে হবে। দলের স্বার্থ এবং দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার হাতে তুলে দিচ্ছেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, দলের ভেতরে-বাইরে কিছু বক্তব্য শুনে মনে হয়, গত ১৭ বছরে যারা বাইরে থেকে এসে প্রভাব বিস্তার করেছে, তাদের মতো করেই যেন এখন কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভুলে যাবেন না, বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণ ও ভোটাররা ভোট দিয়ে আমাদের এখানে বসিয়েছে। আমরা চুরি করে এখানে আসিনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছি। সেই সম্মান আমাদের দিতে হবে। আমাদের মধ্যে ঢুকে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না।’

কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে খরার সময় কৃষকেরা প্রয়োজনীয় পানি পান। পাশাপাশি কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে আরও সম্মানিত হবেন।

সারের সংকট প্রসঙ্গে ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, দেশে কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করা হচ্ছে। আগের সরকারের সময়ে যারা সার ডিলারশিপ নিয়েছিলেন, তাদের অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ এলাকায় না থাকায় সার উত্তোলন বা বিক্রি করছেন না। এর ফলে কিছু এলাকায় সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, সার সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো পক্ষ কৃত্রিমভাবে সার সংকট তৈরি করতে না পারে।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানা ও স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থার মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের, সাবেক সদস্য জামালউদ্দিন আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মোল্লা, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এবং ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হামলায় নিহত তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নূর কচিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

এম.সি.এইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত