আন্তর্জাতিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক বিরোধে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে কোনো পক্ষের দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন দোহাভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনসাইটস ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ আল-হাশেমি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কৌশলগত নৌপথগুলোকে আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে রাখাই এগুলো নিরাপদ রাখার অন্যতম উপায়। তার মতে, এসব ভৌগোলিক এলাকা বা বেসামরিক স্থাপনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক ছাড় আদায়ের বিনিময় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
আল-হাশেমির মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথই বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর।
সৌদি তেল সরবরাহেও বড় ঝুঁকি
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাইপলাইনটি দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করে। এর সক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও বেশি হতে পারে।
আল-হাশেমির মতে, পাইপলাইনটি পুনরায় চালু করাকে যদি কোনো পক্ষের কাছ থেকে আদায় করা রাজনৈতিক বা সামরিক ছাড় হিসেবে দেখা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অবকাঠামো বন্ধ করে দেওয়াকেও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো কৌশলগত অবকাঠামো বন্ধ রাখা এবং পরে তা খুলে দেওয়াকে যদি ‘কনসেশন’ বা ছাড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সেটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ?
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়া ও অন্যান্য বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
অন্যদিকে বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল ও ইউরোপমুখী বাণিজ্যপথের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের পশ্চিম ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ও বন্দর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একসঙ্গে দুই নৌপথে চাপের প্রভাব
হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—দুটি রুট একই সময়ে ঝুঁকিতে পড়লে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাহাজকে বিকল্প দীর্ঘপথে ঘুরিয়ে নিতে হলে পরিবহন সময় ও বীমা ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তেল ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের তেল পরিবহনেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ এবং লোহিত সাগরীয় রুটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির ফলে সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থাগুলোও চাপে পড়েছে।
ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা এখন কেবল আঞ্চলিক সামরিক প্রশ্ন নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রবাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
আল-হাশেমির বক্তব্যের মূল প্রশ্নটিও সেখানেই—কৌশলগত নৌপথ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে যদি সংঘাতের সময় রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তার প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
কেশম দ্বীপে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
নিজেদের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রে সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত: দাবি হুথিদের
আগে টাকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, সেই অর্থেই অস্ত্র কিনবে ইসরায়েল