সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করা হলে এর সংবেদনশীল প্রযুক্তি চীনের হাতে চলে যেতে পারে বলে আবারও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক একটি বিস্তারিত নথিতে সৌদি আরবের যেসব সামরিক ঘাঁটিতে উন্নত যুদ্ধবিমান ও এফ-৩৫ প্রযুক্তি থাকবে, সেখানে চীনা কর্মীদের প্রবেশ ঠেকানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ নিয়ে নথিটি মার্কিন কংগ্রেস এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও ঘুরছে।
এর আগে কয়েক মাস আগে প্রকাশিত পেন্টাগনের একটি প্রতিবেদনে সৌদি আরবের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোয় চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সৌদি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে চীনের সম্ভাব্য প্রবেশাধিকার নিয়েও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছিল বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নতুন মার্কিন গোয়েন্দা নথিতে এফ-৩৫ প্রযুক্তি থাকা স্থাপনাগুলোতে শুধু মার্কিন ও সৌদি কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের প্রবেশাধিকার রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে এসব যুদ্ধবিমানের রাডার ও নজরদারি প্রযুক্তি চীনের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়টিও এ উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, পেন্টাগন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউস ও চীনা দূতাবাসও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন রিয়াদের কাছে ৪৮টি পর্যন্ত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করবে। কোটি কোটি ডলারের এই প্রতিরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি সৌদি আরবকে প্রধান ন্যাটোবহির্ভূত মিত্রের মর্যাদা এবং পৃথক বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ও প্যাকেজের অংশ ছিল।
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে শত্রুর শনাক্তকরণ এড়িয়ে চলার সক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরায়েলের কাছেই এফ-৩৫ রয়েছে। দেশটি ৪৮টি যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে এবং আরও ৫২টি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
হুথিদের লক্ষ্যবস্তু করা সহজ হবে: সাবেক মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী
ইরানের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি: কাৎজ
মার্কিন পাইলট উদ্ধারের গল্প পুরোপুরি কাল্পনিক: মোহেবি