সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরানের নিখুঁত হামলায় রুশ স্যাটেলাইটের সহায়তার অভিযোগ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম

মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো আরও নিখুঁত হয়ে ওঠার পেছনে রাশিয়ার গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের তথ্য সহায়তা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সৌদি আরবে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর ইরানের ভয়াবহ হামলার মাত্র দুই দিন আগে রাশিয়ার ১৪টি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ওই এলাকার ওপর দিয়ে গেছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এসব স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য ইরানকে মার্কিন সামরিক সম্পদ শনাক্ত ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে থাকতে পারে। তবে রুশ স্যাটেলাইটের সরাসরি পাঠানো ছবি সিএনএন হাতে পায়নি। বরং কক্ষপথে স্যাটেলাইটগুলোর গতিবিধি বিশ্লেষণ করে এই সম্ভাব্য যোগসূত্র চিহ্নিত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের ২৭ তারিখে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হন। হামলায় গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। এর মধ্যে ছিল আকাশে সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান। হামলার আগে রাশিয়ার কসমস ২৫৭৩সহ ১৪টি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ওই ঘাঁটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল বলে সিএনএনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

কসমস ২৫৭৩-এর মতো স্যাটেলাইটে উচ্চক্ষমতার চিত্র ধারণের প্রযুক্তি রয়েছে। কৃত্রিম অ্যাপারচার রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে মেঘলা আবহাওয়া কিংবা রাতের অন্ধকারেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে কোনো সামরিক ঘাঁটিতে বিমান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।

সিএনএনের অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, রুশ স্যাটেলাইটের তথ্য ইরান অন্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ক্ষেত্রেও পেয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদে একটি মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনায় হামলার তথ্যও রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সম্ভাব্য সহায়তা কেবল একটি হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

রাশিয়া অবশ্য ইরানকে স্যাটেলাইটের ছবি বা গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই দাবি করেছিলেন, প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির ছবি রাশিয়া ইরানকে সরবরাহ করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিয়মিত তথ্যভান্ডারে ওই ঘাঁটির ওপর রুশ স্যাটেলাইটের গতিবিধির তথ্যও ছিল।

সিএনএনের এই অনুসন্ধান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলার সক্ষমতা এবং রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে রুশ স্যাটেলাইটের তথ্য সরাসরি ইরানের হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো স্যাটেলাইট চিত্র বা প্রকাশ্য প্রমাণ সিএনএনের হাতে নেই। সূত্র: সিএনএন

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত