ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি টোগো-পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়, তবে তার ভাষায়, তেহরান এখনো সেই চুক্তির জন্য প্রস্তুত নয়।
আইআরজিসির দাবি, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘ট্রেন্ড’ (Trend) নামের টোগো-পতাকাবাহী ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের ভাষায় ‘অবৈধভাবে’ যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় জাহাজটিতে আঘাত করা হলে আগুন ধরে যায় এবং সেটি থেমে যায়। তবে হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্ররোচনা ও নির্দেশনায় হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
হরমুজে জাহাজ চলাচলে নতুন ঝুঁকি
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার এই দাবি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। এর মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে ট্যাংকারে হামলার দাবি করা হলো। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০৪ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই প্রায় ১০১.২০ ডলারে লেনদেন করছিল।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই জলপথে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
ট্রাম্পের বার্তা—ইরান চুক্তি চায়
ট্যাংকারে হামলার দাবির মধ্যেই ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যেতে চায়।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায়; তবে আমার মতে তারা এখনো প্রস্তুত নয়।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তি চায়, যেটিকে তিনি ‘ভালো’ চুক্তি মনে করবেন; তা না হলে কোনো চুক্তি হবে না।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, জুনে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি। যুদ্ধ এখন সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে।
সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনীতির সম্ভাবনা
ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরানও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চাপ ধরে রেখেছে।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হলে আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল।
অর্থাৎ একদিকে সামরিক সংঘাত অব্যাহত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকায় সেই কূটনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণের দাবি
হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং যেসব জাহাজকে তারা ‘আগ্রাসী’ মনে করবে, তাদের চলাচল ঠেকানো হবে।
টোগো-পতাকাবাহী ট্যাংকারটির ক্ষেত্রে আইআরজিসি বলেছে, জাহাজটি ‘অবৈধভাবে’ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। হামলার পর আগুন ধরে গেলে জাহাজটি থেমে যায় বলে তাদের দাবি। তবে জাহাজটির কার্গো, ক্রুদের অবস্থা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আইআরজিসি বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। ঘটনাটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ
হরমুজে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। যদিও শুক্রবার সৌদি আরবের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় তেলের দাম সামান্য কমেছে, তবু উভয় প্রধান বেঞ্চমার্কই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া গেলে বাজারের অতিরিক্ত ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু সামুদ্রিক পরিবহনের ওপর নতুন করে হামলা হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আবারও বাড়তে পারে।
এদিকে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানি প্রতিনিধিদলও সেখানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতার দিকেও আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।
হরমুজে ট্যাংকারে হামলার নতুন দাবি এবং ট্রাম্পের ‘চুক্তি’ সংক্রান্ত মন্তব্য—দুটি ঘটনাই দেখাচ্ছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে একই সময়ে সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক সম্ভাবনা পাশাপাশি চলছে। তবে সংঘাতের অবসান বা হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চ্যাটজিপিটি দিয়ে নকল, অতঃপর...
ফিরে এসেছে একসময় স্পেনের ফুটবলের বিস্ময় ‘সুপার দেপোর’
ওসি পরিচয়ে ভাইরাল হওয়া অডিওতে যা শোনা গেলো