যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরের সম্মানে দেয়ালচিত্র এঁকেছেন গাজার শিল্পীরা। গাজা সিটির ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের পাশে বিশাল কংক্রিটের একটি অংশে আঁকা ওই ম্যুরালে ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো ম্যাকলমোরকে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ম্যুরালের পাশে লেখা হয়েছে—‘ফিলিস্তিনের জন্য আপনার কণ্ঠ ব্যবহারের জন্য ধন্যবাদ।’
২৬ বছর বয়সী শিল্পী অ্যান রেডওয়ান ও তাঁর সহশিল্পী কুসাই আল-হেলো ম্যুরালটি তৈরি করেন। রেডওয়ান বলেন, গাজায় বসবাসকারী শিল্পী হিসেবে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কথা যারা তুলে ধরছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই তারা এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন।
রয়টার্সকে রেডওয়ান বলেন, ম্যাকলমোরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য এটি তাদের একটি সরল বার্তা। গাজার পরিস্থিতির প্রতি বিশ্বের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তারা আরও বড় ম্যুরাল আঁকতে পারেন বলেও জানান তিনি।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন ম্যাকলমোর। ব্রিটিশ গায়ক এড শিরানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ হিসেবে তাঁর পরিবেশনা করার কথা ছিল। তবে সফরের আয়োজক ও কয়েকটি ভেন্যু কর্তৃপক্ষের আপত্তির পর তাঁকে লাইনআপ থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ম্যাকলমোর ৪ সেপ্টেম্বরের এক কনসার্টে মঞ্চ থেকে ‘Free Palestine’ বলে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করেন। পরে তাঁকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শিরান জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না; আয়োজক ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগও ওঠে। মার্কিন ব্যবসায়ী রবার্ট ক্রাফটসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তবে ম্যাকলমোর এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সফর থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলমোর ঘোষণা দেন, সফর থেকে তাঁর প্রত্যাশিত প্রায় ১০ লাখ ডলার নিট আয় গাজার সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনের মধ্যে দান করবেন।
শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মিস র্যাচেলও ম্যাকলমোরের এই অনুদানের সমপরিমাণ আরও ১০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গাজার মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক তারকাদের মাধ্যমে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে তাদের মতে, এককালীন অনুদানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহায়তাও প্রয়োজন।
গাজা সিটির ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ভাঙা কংক্রিট ও ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের মাঝেই ম্যুরালটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি একই সঙ্গে শিল্পকর্ম ও স্থানীয় শিল্পীদের পক্ষ থেকে একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।
ম্যুরালে ম্যাকলমোরকে ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় দেখানোর পাশাপাশি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতার বার্তা যুক্ত করা হয়েছে। রয়টার্স-এর ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সামনে ওই ম্যুরালের পাশ দিয়ে ফিলিস্তিনিদের চলাচল করতেও দেখা যায়।
ম্যাকলমোরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিনোদনজগতের বিতর্কের মধ্যেই গাজার শিল্পীদের এই উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আঁকা ছবিটি সংগীত, শিল্প ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সংহতির একটি দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছে।
রিয়াদে কেন বারবার জরুরি সতর্কতা জারি হচ্ছে, পেছনে কী হুমকি?
শুধু সৌদি জাহাজে হামলা করবে হুথিরা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক