১৭ বছর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে: রিজভী

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গত ১৭ বছরে ছেলেখেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি শিক্ষা। শিক্ষার গুরুত্ব উপেক্ষা করে কোনো দেশই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ একটি সময়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে জাতির ওপর পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল যখন প্রশ্নপত্রে প্রশ্ন তৈরি করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে। আবার ক্ষমতাশালী মহল থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন চলার কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর প্রভাব জাতির সক্ষমতার ওপর পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জনের জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আধুনিক প্রযুক্তি, জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে তাদের পরিচিত করে তুলতে হবে। সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, কোনো দেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে ওঠে শিক্ষার ওপর। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল রেখে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও প্রণোদনা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও দলটি গুরুত্ব দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বিএনপির সরকারপ্রধান তারেক রহমান নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা বলেছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব হলে তার সুফল শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়বে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।

এম.সি. এইচ
আরও পড়ুন