দক্ষিণ আফ্রিকায় একই কায়দায় ফেলে রাখা ৯ নারীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার এখুরুলেনি এলাকায় জুলাই থেকে একই ধরনের পরিস্থিতিতে নয়জন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নারীদের বেশিরভাগই তরুণী এবং তাদের অনেকের শরীরে গুরুতর নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলো দেশটিতে নারী নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর একটি ৩৮ বছর বয়সী দুই সন্তানের মা দিনেও মোটাপানের। তাকে সর্বশেষ জীবিত দেখা যায় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর)। পরে এখুরুলেনির একটি আবাসিক এলাকায় নির্যাতনের চিহ্নযুক্ত ও আংশিকভাবে পোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। দিনেওর খালা নকওয়ান্ডা মাতশিকিজা বলেন, পরিবারের জন্য তার মৃত্যু মেনে নেয়া অত্যন্ত কঠিন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আরও কত নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।

নিখোঁজ হওয়া নারীদের মধ্যে ইতুমেলেং কেকানাও ছিলেন। ৩২ বছর বয়সী এই দোকানকর্মীর মরদেহ জুলাইয়ে উদ্ধারের সময় তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে আংশিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় একটি সেতুর ওপর ফেলে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দিনেও, ইতুমেলেংসহ এখুরুলেনিতে নিহত অন্য নারীদের ঘটনায় আর কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ এটাও নিশ্চিত নয় যে ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো সিরিয়াল হত্যাকারী রয়েছে কি না; ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নাও হতে পারে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫ হাজার ৪২৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, ওই সময়ে নিহতদের মধ্যে ৫৬৯ জন নারী ছিলেন। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এখুরুলেনির ঘটনাগুলোর তদন্তে কোনো দিক বাদ না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নারী হত্যাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।

জেএম
আরও পড়ুন