ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শুরুর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান অপরাধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা ও পশ্চিম তীরে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিভিন্ন অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। এসব অপরাধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুতর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রবেশ ও মসজিদটির অবমাননারও তীব্র নিন্দা জানায় তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গত তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থানের দাবি করা কয়েকটি দেশের অস্ত্র, অর্থ ও রাজনৈতিক সহায়তা পেয়ে ইসরায়েল গাজায় বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বড় গণহত্যা চালিয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে আটক করে রাখা হয়েছে এবং কুখ্যাত কারাগারগুলোতে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এতে কয়েক ডজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষের অঙ্গহানি বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরান। প্রতি মাসে গড়ে অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি বন্দি নির্যাতনে মারা যাচ্ছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব ঘটনা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ইসরায়েলের বৈষম্যমূলক ও দখলদার নীতির প্রমাণ। একই সঙ্গে এসব গুরুতর মানবাধিকার ও মানবিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরায়েলের সমর্থকদের নীরবতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তেহরান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অপরাধের তীব্র নিন্দা জানায় ইরান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক, মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও ভয় দেখানোর কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। ইসরায়েলি অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের দখল, আইন লঙ্ঘন ও বিভিন্ন অপরাধ এবং গত আট দশকে আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে তাদের হামলা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইনের গ্রহণযোগ্যতাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঠেকাতে নিরাপত্তা পরিষদে সবচেয়ে বেশি ভেটো ব্যবহারের ঘটনাকেও এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য আস্থা পুনরুদ্ধার। ইরান বলেছে, এমন সময়ে প্রতিটি দায়িত্বশীল সরকারের উচিত ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার, বিশেষ করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। একই সঙ্গে গাজায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, গণহত্যা বন্ধ করা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের বিস্তার ঠেকানো এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন