‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করলো হোয়াইট হাউস, প্রথম যা সম্প্রচার হলো

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ এএম

সাংবাদিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এবার ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে একটি নিজস্ব সম্প্রচার কার্যক্রম চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলে ২৪ ঘণ্টা ট্রাম্পের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ও বিভিন্ন নির্বাচিত দৃশ্য প্রচারের কথা বলা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের বিবরণে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প টিভি’তে শীর্ষ ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং অবশ্যই দেখার মতো নির্বাচিত দৃশ্য ২৪ ঘণ্টা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা হবে।

প্রথম সম্প্রচারে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ শিরোনামে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এরপর ট্রাম্পের ২০২৫ সালের অভিষেক অনুষ্ঠানের পুরোনো সম্প্রচার দেখানো শুরু হয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ‘ট্রাম্প টিভি’ মূলত ট্রাম্পের পুরোনো বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বক্তব্য প্রচার করবে।

তবে হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বর্তমান ঘটনাগুলোও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যদিও ‘ট্রাম্প টিভি’র লাইভ সম্প্রচারে দর্শকদের তথ্য জানুন এবং হালনাগাদ থাকুন বলে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এর আগে সপ্তাহান্তে তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যমের ক্রমাগত ভুয়া সংবার প্রকাশের কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন পুলে থাকা সিবিএস, এনবিসি, এবিসি, সিএনএন ও ফক্স জানিয়েছে, সোমবার তারা ট্রাম্পের কার্যক্রম কাভার করবে না। ফলে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক এবং হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানও তারা কাভার করেনি।

হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হলেও সেখানে কোনো শব্দ ছিল না। কারণ সেখানে টেলিভিশন পুলের বুম মাইক্রোফোন ছিল না। এদিকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবিতে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও আদালতে মামলা করেছে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা ও তার ওপর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনায় আসা হোয়াইট হাউসের সহযোগী নাটালি হার্প নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের আগে ট্রাম্পকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নেতিবাচক প্রতিবেদনগুলোর ভিডিও দেখিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকদেরও হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। মেক্সিকো উপসাগরের নাম ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ‘গালফ অব আমেরিকা’ হিসেবে ব্যবহার না করায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

পরে একটি জেলা আদালতের বিচারক সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও আপিল আদালত মূলত তা পুনর্বহাল করে। বিষয়টি নিয়ে এপি এখনো আদালতে লড়াই করছে।

এ ছাড়া প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সাংবাদিককে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

সমালোচকদের অভিযোগ, হোয়াইট হাউসের কার্যক্রম ও সরকারি সফর থেকে সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর পরিপন্থি। এই সংশোধনী সরকারি সেন্সরশিপ ছাড়াই সাংবাদিকদের তথ্য ও মতামত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে।

সূত্র : ফোর্বস।

এএম
আরও পড়ুন