সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুরোনো কমিটিগুলোর সদস্য তালিকা পর্যালোচনা করে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। এতে সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির হালনাগাদ তথ্য ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে বলা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-২ মো. আশরাফুল ইসলামের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির অধিকাংশ কয়েক বছর আগে গঠিত হওয়ায় বর্তমানে সেগুলো হালনাগাদ নেই। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর না থাকা, নিয়মিত সভা না হওয়া কিংবা সদস্যদের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের কারণে অনেক কমিটি কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছে। নতুন প্রশাসনিক বাস্তবতায় এসব কমিটি সচল করতেই পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বরং পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করতে তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করা হবে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক ওই তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার আওতাধীন কমিটি পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সমন্বয় ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংযুক্ত তালিকায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসবের মধ্যে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি এবং বিভিন্ন কৃষি ও ফলদ বৃক্ষবিষয়ক কমিটি রয়েছে।

জেলা প্রশাসকদের সভাপতিত্বে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি, ওএমএস ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত জেলা কমিটি, জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদানের আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদানসংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কারসংক্রান্ত জেলা কমিটিও তালিকায় রয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, বিভিন্ন পর্যায়ের এসব কমিটির অনেকগুলো দীর্ঘদিন ধরে পুনর্গঠন হয়নি। ফলে বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে অনেক কমিটির সদস্য তালিকার সামঞ্জস্য নেই। কোথাও আবার কমিটির কার্যক্রম বা প্রজ্ঞাপনের তথ্যও অনুপস্থিত। এসব সমস্যা দূর করে কমিটিগুলোকে কার্যকর করার লক্ষ্যেই এবার ব্যাপকভাবে পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করে সংশ্লিষ্ট তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে জানাতে বলা হয়েছে। এর ফলে জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন করে অংশীজনদের সম্পৃক্ততা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত