হরমুজে ভারতীয় নাবিক নিহত, কী ঘটেছিলো এমভি কেপ দাওয়ে?

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপকূলীয় জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তায় নৌবাহিনীর এসকর্ট চেয়েছে দেশটির Forward Seamen’s Union of India (FSUI)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেওয়া এক চিঠিতে ইউনিয়নটি হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় জলসীমায় ভারতীয় নাবিকদের জন্য নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে।

এই দাবি সামনে আসে ওমানের উপকূলে এমভি কেপ দাও (MV Cape Dao) নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাবিক সূরজ যাদব নিহত হওয়ার পর। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটিকে গভীর উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে।

কী ঘটেছিলো এমভি কেপ দাওয়ে?

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার  এমভি কেপ দাও (MV Cape Dao) সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে ভারতের দিকে যাচ্ছিল। বুধবার ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে জাহাজটি হামলার শিকার হয়।

ভারতীয় নাবিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির বন্দর পাশের অংশে দুটি আঘাত লাগে—একটি ক্রুদের থাকার জায়গার কাছে এবং অন্যটি ইঞ্জিন রুমের কাছে। হামলার পর জাহাজে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে।

জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন বলে ইউনিয়ন ও একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ইউনিয়নের হিসাবে তাদের মধ্যে ২০ জন ভারতীয় ছিলেন। তবে ভারতীয় দূতাবাসের প্রাথমিক বিবৃতিতে ১৯ ভারতীয় নাবিকের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সরকারি বক্তব্যে ২০ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১৯ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়।

নিহত নাবিককে উত্তর প্রদেশের দেওরিয়ার ২৬ বছর বয়সী সূরজ যাদব হিসেবে শনাক্ত করেছে FSUI। তিনি জাহাজটির ‘উইপার’ হিসেবে কাজ করছিলেন। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তিনি মারা যান বলে ভারতীয় সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

ওমানের রয়্যাল নেভি হামলার পর জাহাজ থেকে জীবিত ক্রুদের উদ্ধার করে। বেঁচে যাওয়া নাবিকদের ওমানের তীরে নিরাপদে নেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামলার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জাহাজটিতে টর্পেডো বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের কথা বলা হয়েছে। FSUI দাবি করেছে, দুটি টর্পেডো জাহাজটির বন্দর পাশে আঘাত করে। তবে হামলার অস্ত্র ও হামলাকারী সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনও সীমিত।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করলেও সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান নৌযান চলাচল অনেক কমে এসেছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত