জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জামালপুরে আমন চাষে সেচের ব্যয় বেড়েছে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে অনেক কৃষক জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে পারছেন না। কেউ কেউ সেচের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন, আবার কোথাও কোথাও সেচ বন্ধ রয়েছে। এতে পানির অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমনখেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানের ফলন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
কৃষিনির্ভর জামালপুরের সাত উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে এক লাখ ২০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে সবজি ও অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়েছে। এসব ফসলের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকদের বড় একটি অংশ ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল।
কৃষকেরা জানান, আমন মৌসুমের মাঝপথে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচযন্ত্র চালানোর খরচও বেড়েছে। আগে যে পরিমাণ অর্থে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হতো, এখন একই পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে বেশি টাকা লাগছে। বাড়তি ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেকে সেচ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক হাবিল সেক এবং ইসলামপুরের পলবান্ধা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার কৃষক শরিফ মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, ধানের পরিচর্যার এ সময়ে নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচের খরচ বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত এই ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজন থাকলেও সব সময় জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক মনু মিয়াসহ কয়েকজন কৃষকও সেচ ব্যয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, পানির ঘাটতির কারণে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে শেষ পর্যন্ত উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষকেরা আরও বলেন, আমন আবাদে সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের খরচ আগেই বেড়েছে। এর সঙ্গে সেচের ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচ আরও বেড়েছে। ধানের বিক্রিমূল্য যদি উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে মৌসুম শেষে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক ও সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি ব্যয় কমানো সম্ভব। এ জন্য কৃষকদের কম খরচের সেচব্যবস্থা ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব। কৃষকদের সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমন চাষিদের সেচ খরচ বেড়েছে। এতে তাঁরা বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছেন। সময়মতো সেচ না পেলে ধানের ফলন কমার আশঙ্কা থাকে। তাই আমন আবাদে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কম খরচে সেচ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
মহেশপুর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার
নিম্নচাপের প্রভাবে কখন থেকে বাড়তে পারে তাপমাত্রা